ঢাকা ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চাকসু নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা সচল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি জানালো শিবির-সমর্থিত প্যানেল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) নির্বাচনের দিন ক্যাম্পাসের অকেজো সিসিটিভি ক্যামেরা মেরামত ও পরিবর্তনসহ বেশ কিছু দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে শাখা ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল।

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় এই সংবাদ সম্মেলন করে প্যানেলটি। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্যানেলটি ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী ইব্রাহীম হোসেন (রনি) বলেন, ‘চাকসু নির্বাচন খুব কাছাকাছি এবং এর প্রক্রিয়ার সবকিছু ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে কমিশনের কিছু অস্পষ্টতা এবং কিছু বিষয়ে আমাদের অভিযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘চাকসু নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন বলেছিল, নির্বাচনের সুন্দর ও কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আসা-যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করবে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করবে। কিন্তু আমরা এখনও ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ লক্ষ্য করছি। আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, কবে নাগাদ নিরাপত্তাবেষ্টনী করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, আমরা দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের পরপরই সিনেটে যে ছাত্রপ্রতিনিধিদের প্রেরণ করা হবে সেটির নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাকসু) নির্বাচনের পাশাপাশি সিনেট সদস্য নির্বাচনও হচ্ছে। কিন্তু আমাদের চাকসুতে কেবল কেন্দ্র ও হল সংসদেই নির্বাচন করা যাচ্ছে, সিনেটে অংশগ্রহণের কোনো প্রক্রিয়া রাখা হয়নি। আমরা জানতে চাই, প্রশাসন সিনেট নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে।’

ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাদের প্রার্থীদের কাছে পোলিং এজেন্টদের তথ্য চেয়েছিল, আমরা সেই তথ্য দিয়েছিলাম। নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসন আমাদের জানায়নি কারা পোলিং এজেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। যার ফলে কারা পোলিং এজেন্ট হিসেবে থাকতে পারবে, আমরা সেটা জানতে পারিনি। আমরা চাইব, প্রশাসন এটি দ্রুত প্রকাশ করবে। কেননা, যারা পোলিং এজেন্ট হবেন, তাদের প্রস্তুতির একটি বিষয় থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সিসিটিভির বেষ্টনীর মধ্যে নিয়ে আসা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ক্যাম্পাসের মোট ক্যামেরার অধিকাংশই অকেজো। প্রশাসনের কাছে বলব, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো মেরামত কিংবা পরিবর্তন করা হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে আমরা চাইব, নির্বাচনে ভোটারদের জন্য যেন অমোছনীয় কালির ব্যবস্থা করা হয়।’

রনি আরও বলেন, ‘আমাদের অন্যতম দাবি হলো, ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা সচল রাখতে হবে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য শাটলের শিডিউল বৃদ্ধিসহ বাস সার্ভিস চালু করতে হবে এবং অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন বাস রুটগুলো জানানো হয়। এটির মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থী ভাইবোনদের ভোগান্তি লাঘব হবে।’

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

চাকসু নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা সচল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি জানালো শিবির-সমর্থিত প্যানেল

আপডেট সময় : ১১:১৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) নির্বাচনের দিন ক্যাম্পাসের অকেজো সিসিটিভি ক্যামেরা মেরামত ও পরিবর্তনসহ বেশ কিছু দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে শাখা ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল।

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলায় এই সংবাদ সম্মেলন করে প্যানেলটি। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্যানেলটি ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী ইব্রাহীম হোসেন (রনি) বলেন, ‘চাকসু নির্বাচন খুব কাছাকাছি এবং এর প্রক্রিয়ার সবকিছু ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে কমিশনের কিছু অস্পষ্টতা এবং কিছু বিষয়ে আমাদের অভিযোগ রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘চাকসু নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন বলেছিল, নির্বাচনের সুন্দর ও কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আসা-যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করবে এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করবে। কিন্তু আমরা এখনও ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ লক্ষ্য করছি। আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, কবে নাগাদ নিরাপত্তাবেষ্টনী করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, আমরা দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের পরপরই সিনেটে যে ছাত্রপ্রতিনিধিদের প্রেরণ করা হবে সেটির নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাকসু) নির্বাচনের পাশাপাশি সিনেট সদস্য নির্বাচনও হচ্ছে। কিন্তু আমাদের চাকসুতে কেবল কেন্দ্র ও হল সংসদেই নির্বাচন করা যাচ্ছে, সিনেটে অংশগ্রহণের কোনো প্রক্রিয়া রাখা হয়নি। আমরা জানতে চাই, প্রশাসন সিনেট নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে।’

ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাদের প্রার্থীদের কাছে পোলিং এজেন্টদের তথ্য চেয়েছিল, আমরা সেই তথ্য দিয়েছিলাম। নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রশাসন আমাদের জানায়নি কারা পোলিং এজেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। যার ফলে কারা পোলিং এজেন্ট হিসেবে থাকতে পারবে, আমরা সেটা জানতে পারিনি। আমরা চাইব, প্রশাসন এটি দ্রুত প্রকাশ করবে। কেননা, যারা পোলিং এজেন্ট হবেন, তাদের প্রস্তুতির একটি বিষয় থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সিসিটিভির বেষ্টনীর মধ্যে নিয়ে আসা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ক্যাম্পাসের মোট ক্যামেরার অধিকাংশই অকেজো। প্রশাসনের কাছে বলব, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো মেরামত কিংবা পরিবর্তন করা হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে আমরা চাইব, নির্বাচনে ভোটারদের জন্য যেন অমোছনীয় কালির ব্যবস্থা করা হয়।’

রনি আরও বলেন, ‘আমাদের অন্যতম দাবি হলো, ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা সচল রাখতে হবে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য শাটলের শিডিউল বৃদ্ধিসহ বাস সার্ভিস চালু করতে হবে এবং অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন বাস রুটগুলো জানানো হয়। এটির মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থী ভাইবোনদের ভোগান্তি লাঘব হবে।’