ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বল্প ব্যয়ের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি আনছে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সরকার শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব এবং স্বল্প ব্যয়ের প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

বুধবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বৃত্তাকার নৌপথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপন না করার কারণে রাসায়নিক বর্জ্য খাল-নদীতে মিশে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এই সমস্যা সমাধানে সরকার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য প্রচলিত ইটিপি স্থাপনের ব্যয় অত্যন্ত বেশি। ২০ কোটি টাকার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কেবল ইটিপি স্থাপনেই যদি ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়, তবে সেই শিল্পের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে কম খরচে কার্যকর বর্জ্য শোধন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি চীন সফরের সময় দেশটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা স্বল্প ব্যয়ে বর্জ্য শোধনের কিছু প্রযুক্তিগত ধারণা দিয়েছে, যা বেসরকারি পর্যায়ে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে। তবে এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কেবল খাল খনন বা সংস্কারে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেই হবে না; শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় খাল পুনরুদ্ধার কর্মসূচি শুরু করেছে। মন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব উদ্যোক্তাদের হলেও সেই ব্যবসাকে মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য ব্যবসায়ী, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার সুফল দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে নেদারল্যান্ডস সরকারের কাছে কারিগরি সহায়তা চাওয়া হতে পারে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুলশান লেকে এসটিপি নির্মাণে অগ্রগতি পরিদর্শন করলেন গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী

শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বল্প ব্যয়ের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি আনছে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:২১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সরকার শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবেশবান্ধব এবং স্বল্প ব্যয়ের প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

বুধবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বৃত্তাকার নৌপথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপন না করার কারণে রাসায়নিক বর্জ্য খাল-নদীতে মিশে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এই সমস্যা সমাধানে সরকার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য প্রচলিত ইটিপি স্থাপনের ব্যয় অত্যন্ত বেশি। ২০ কোটি টাকার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কেবল ইটিপি স্থাপনেই যদি ১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়, তবে সেই শিল্পের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে কম খরচে কার্যকর বর্জ্য শোধন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি চীন সফরের সময় দেশটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা স্বল্প ব্যয়ে বর্জ্য শোধনের কিছু প্রযুক্তিগত ধারণা দিয়েছে, যা বেসরকারি পর্যায়ে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে। তবে এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কেবল খাল খনন বা সংস্কারে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেই হবে না; শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় খাল পুনরুদ্ধার কর্মসূচি শুরু করেছে। মন্ত্রী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব উদ্যোক্তাদের হলেও সেই ব্যবসাকে মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য ব্যবসায়ী, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও জানান, আগামী সপ্তাহে পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার সুফল দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে নেদারল্যান্ডস সরকারের কাছে কারিগরি সহায়তা চাওয়া হতে পারে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।