ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

চীন-পাকিস্তানসহ ২৯ দেশের নতুন জোট, এআই প্রযুক্তিতে বিশ্ব নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে চীন ২৯টি দেশের সঙ্গে একটি নতুন জোট গঠন করেছে। সংগঠনটির নাম ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ বা ওয়াইকো। সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। এই উদ্যোগের ফলে এআই প্রযুক্তির বিশ্ব নেতৃত্বে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম মেধার শীর্ষ সম্মেলনে ওয়াইকো জোট গঠিত হয়। সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনটির জন্মলগ্নে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ‘ওয়াইকোর উদ্দেশ্য হলো কৃত্রিম মেধার ক্ষেত্রে সহযোগিতা। এই প্রযুক্তির উপর সুনির্দিষ্ট কোনো রাষ্ট্রের আধিপত্য থাকা উচিত নয়।’ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নাম উল্লেখ না করেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করেছেন। সম্মেলনে চীন তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করে নিজেদের শক্তিও প্রদর্শন করে।

গত কয়েক বছর ধরেই কৃত্রিম মেধার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিংয়ের এআই মডেলগুলো বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। চীন নিজেকে বিশ্বনেতা হিসেবে তুলে ধরতে মরিয়া, যদিও বর্তমানে এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষস্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এআই মডেলগুলির মধ্যে একটি বড় পার্থক্য হলো খরচ। যে এআই প্রযুক্তি তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে, বেইজিং তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে তা বাজারে আনতে সক্ষম হচ্ছে। যদিও সব ক্ষেত্রে এই যুক্তি প্রযোজ্য নয়, তবে বেইজিংয়ের এই সক্ষমতা ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাংহাইয়ের অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট শি আরও বলেন, ‘চীন এআই-এর ব্যাপারে ঐতিহাসিক অবিচার বন্ধ করার পক্ষপাতী। ওপেন সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের কৃত্রিম মেধার মডেলগুলি চলছে। সেই সুযোগ গ্রহণের জন্য ওয়াইকোর সদস্যদের আহ্বান জানাচ্ছি। এই প্রযুক্তির উন্নতি এবং তাতে সবার ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে বেইজিং বদ্ধপরিকর।’ বর্তমানে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার বেশ কিছু দেশে চীনের কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি চালু রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লার তিতাসে টেঁটাযুদ্ধে নারী নিহত: ৬১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, গ্রেপ্তার ৫

চীন-পাকিস্তানসহ ২৯ দেশের নতুন জোট, এআই প্রযুক্তিতে বিশ্ব নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা

আপডেট সময় : ০৪:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে চীন ২৯টি দেশের সঙ্গে একটি নতুন জোট গঠন করেছে। সংগঠনটির নাম ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ বা ওয়াইকো। সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। এই উদ্যোগের ফলে এআই প্রযুক্তির বিশ্ব নেতৃত্বে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম মেধার শীর্ষ সম্মেলনে ওয়াইকো জোট গঠিত হয়। সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনটির জন্মলগ্নে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, ‘ওয়াইকোর উদ্দেশ্য হলো কৃত্রিম মেধার ক্ষেত্রে সহযোগিতা। এই প্রযুক্তির উপর সুনির্দিষ্ট কোনো রাষ্ট্রের আধিপত্য থাকা উচিত নয়।’ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নাম উল্লেখ না করেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করেছেন। সম্মেলনে চীন তাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করে নিজেদের শক্তিও প্রদর্শন করে।

গত কয়েক বছর ধরেই কৃত্রিম মেধার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিংয়ের এআই মডেলগুলো বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। চীন নিজেকে বিশ্বনেতা হিসেবে তুলে ধরতে মরিয়া, যদিও বর্তমানে এই ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষস্থানে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এআই মডেলগুলির মধ্যে একটি বড় পার্থক্য হলো খরচ। যে এআই প্রযুক্তি তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছে, বেইজিং তুলনামূলকভাবে অনেক কম খরচে তা বাজারে আনতে সক্ষম হচ্ছে। যদিও সব ক্ষেত্রে এই যুক্তি প্রযোজ্য নয়, তবে বেইজিংয়ের এই সক্ষমতা ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাংহাইয়ের অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট শি আরও বলেন, ‘চীন এআই-এর ব্যাপারে ঐতিহাসিক অবিচার বন্ধ করার পক্ষপাতী। ওপেন সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের কৃত্রিম মেধার মডেলগুলি চলছে। সেই সুযোগ গ্রহণের জন্য ওয়াইকোর সদস্যদের আহ্বান জানাচ্ছি। এই প্রযুক্তির উন্নতি এবং তাতে সবার ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে বেইজিং বদ্ধপরিকর।’ বর্তমানে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার বেশ কিছু দেশে চীনের কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তি চালু রয়েছে।