ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় তেলের দাম বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উত্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ায় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দরপতন অব্যাহত রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে সতর্ক নজর রাখছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ফেড সুদের হার নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিতে পারে।

মঙ্গলবার ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান হামলার পর তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এসব গোষ্ঠী সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই ডজনের বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যাদের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার নির্দেশ দিয়েছিল।’

এর আগে সেন্টকম জানায়, তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, যেগুলো প্রতিহত করা হয়েছে।

বুধবার ইরান জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী জাহাজ থামিয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার পর তিন দিনের বিরতিতে এসব ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ইরান বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।

বুধবার প্রধান দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। চলতি মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে—জুলাইয়ের শুরুতে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৭২ ডলার থেকে বেড়ে গত সপ্তাহে তা ১০০ ডলারের বেশি হয়েছিল। এরপর তিন দিনের বিরতির সময় দাম কিছুটা কমে এসেছিল।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার ভঙ্গুরতা তুলে ধরেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সপ্তাহে বলেছেন, চুক্তি হওয়ার ‘সম্ভাবনা’ রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লটকন চাষে স্বপ্নপূরণ: নরসিংদীর আক্তার হোসেনের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় তেলের দাম বৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০২:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় বাজারে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উত্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ায় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দরপতন অব্যাহত রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে সতর্ক নজর রাখছেন ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, ফেড সুদের হার নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিতে পারে।

মঙ্গলবার ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান হামলার পর তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এসব গোষ্ঠী সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই ডজনের বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যাদের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার নির্দেশ দিয়েছিল।’

এর আগে সেন্টকম জানায়, তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, যেগুলো প্রতিহত করা হয়েছে।

বুধবার ইরান জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী জাহাজ থামিয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার পর তিন দিনের বিরতিতে এসব ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ইরান বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।

বুধবার প্রধান দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। চলতি মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গেছে—জুলাইয়ের শুরুতে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৭২ ডলার থেকে বেড়ে গত সপ্তাহে তা ১০০ ডলারের বেশি হয়েছিল। এরপর তিন দিনের বিরতির সময় দাম কিছুটা কমে এসেছিল।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার ভঙ্গুরতা তুলে ধরেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সপ্তাহে বলেছেন, চুক্তি হওয়ার ‘সম্ভাবনা’ রয়েছে।