ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বিএনপি নেতা সামছুর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

রাজধানীর মাতুয়াইলে বিএনপির নেতা ও মাতুয়াইল মেডিকেল ইউনিটের সভাপতি মো. সামছুদ্দিন খান সামছুর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার মাতুয়াইল মেডিকেল ইউনিটের সামনে স্থানীয় এলাকাবাসী, বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাওয়ার পথে সামছুদ্দিন খান সামছুর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এবং জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

বক্তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ এবং ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘যারা সামছুদ্দিন খান সামছুকে ছুরিকাঘাত করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পুলিশ চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারে। তাহলে এখনো কেন তারা ধরা পড়ছে না, এ প্রশ্নের জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে।’

তারা আরও বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই। এই সন্ত্রাসীরা যেন ভবিষ্যতে আর কারও ওপর এ ধরনের হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ১৬ বছর ধরে একটি চক্র এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তারা বলেন, ‘মানুষ দীর্ঘদিন নিরাপত্তাহীনতায় ছিল। নতুন বাংলাদেশে যদি এখনো মানুষ নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।’

এদিকে, ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসা. সামছুন্নাহার কদমতলী থানায় দায়ের করা এজাহারে অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করেন। একই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীর ওপর হামলা চালানো হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৪ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে মাতুয়াইল মেডিকেল রোডের শামীমবাগ আবাসিক এলাকার একটি কালভার্টের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি তার স্বামীর পথরোধ করে। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন ধারালো ছুরি দিয়ে তার পিঠে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লার তিতাসে টেঁটাযুদ্ধে নারী নিহত: ৬১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, গ্রেপ্তার ৫

বিএনপি নেতা সামছুর ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

আপডেট সময় : ০৪:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মাতুয়াইলে বিএনপির নেতা ও মাতুয়াইল মেডিকেল ইউনিটের সভাপতি মো. সামছুদ্দিন খান সামছুর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার মাতুয়াইল মেডিকেল ইউনিটের সামনে স্থানীয় এলাকাবাসী, বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাওয়ার পথে সামছুদ্দিন খান সামছুর ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন এবং জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

বক্তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ এবং ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘যারা সামছুদ্দিন খান সামছুকে ছুরিকাঘাত করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পুলিশ চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারে। তাহলে এখনো কেন তারা ধরা পড়ছে না, এ প্রশ্নের জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে।’

তারা আরও বলেন, ‘আমরা বর্তমান সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই। এই সন্ত্রাসীরা যেন ভবিষ্যতে আর কারও ওপর এ ধরনের হামলা চালাতে না পারে, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ১৬ বছর ধরে একটি চক্র এলাকায় চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তারা বলেন, ‘মানুষ দীর্ঘদিন নিরাপত্তাহীনতায় ছিল। নতুন বাংলাদেশে যদি এখনো মানুষ নিরাপদ না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।’

এদিকে, ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসা. সামছুন্নাহার কদমতলী থানায় দায়ের করা এজাহারে অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করেন। একই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীর ওপর হামলা চালানো হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৪ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটে মাতুয়াইল মেডিকেল রোডের শামীমবাগ আবাসিক এলাকার একটি কালভার্টের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি তার স্বামীর পথরোধ করে। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন ধারালো ছুরি দিয়ে তার পিঠে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।