ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মার্কিন সিনেটে ভারত-চীন সহ দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের বিল পাস, নয়াদিল্লির উদ্বেগ

রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বিল মার্কিন সিনেটে পাস হয়েছে, যা ভারতের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিলটি কার্যকর হলে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হবে। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হিসেবে ভারতের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রবল।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করার উদ্দেশ্যেই এই বিলটি আনা হয়েছিল। মার্কিন সেনেটে বিলটি ৮৬-১২ ভোটে পাস হয়।

বিলটির খসড়া প্রস্তুত করেছিলেন প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। এতে রাশিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই তালিকায় ভারতের পাশাপাশি চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজানও রয়েছে।

বর্তমানে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে চীনের পরেই ভারতের অবস্থান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই বিলের আওতায় ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়, তবে তা ভারতের রপ্তানি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

এই বিলটি এমন এক সময়ে পাস হলো যখন পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে ভারতের রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। একসময় ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসত। সেই সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার তেলের ওপর অধিক হারে নির্ভর করতে শুরু করে।

মার্কিন সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল পূর্বে জানিয়েছিলেন যে, কোনো দেশ যদি রাশিয়ার মোট গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম কেনে, তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এই বিধানটি মূলত কয়েকটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ হলে সেই আলোচনাও প্রভাবিত হতে পারে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নতুন করে চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লটকন চাষে স্বপ্নপূরণ: নরসিংদীর আক্তার হোসেনের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

মার্কিন সিনেটে ভারত-চীন সহ দেশগুলোর ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের বিল পাস, নয়াদিল্লির উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০২:১৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বিল মার্কিন সিনেটে পাস হয়েছে, যা ভারতের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিলটি কার্যকর হলে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হবে। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হিসেবে ভারতের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রবল।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করার উদ্দেশ্যেই এই বিলটি আনা হয়েছিল। মার্কিন সেনেটে বিলটি ৮৬-১২ ভোটে পাস হয়।

বিলটির খসড়া প্রস্তুত করেছিলেন প্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। এতে রাশিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এই তালিকায় ভারতের পাশাপাশি চীন, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি এবং আজারবাইজানও রয়েছে।

বর্তমানে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে চীনের পরেই ভারতের অবস্থান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই বিলের আওতায় ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়, তবে তা ভারতের রপ্তানি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

এই বিলটি এমন এক সময়ে পাস হলো যখন পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে ভারতের রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। একসময় ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসত। সেই সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলো বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার তেলের ওপর অধিক হারে নির্ভর করতে শুরু করে।

মার্কিন সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল পূর্বে জানিয়েছিলেন যে, কোনো দেশ যদি রাশিয়ার মোট গ্যাস রপ্তানির ১৫ শতাংশের কম কেনে, তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এই বিধানটি মূলত কয়েকটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ হলে সেই আলোচনাও প্রভাবিত হতে পারে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নতুন করে চাপ সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস