ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সৌরজগতের বাইরে প্রথম উপগ্রহের সন্ধান, মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত

মহাকাশ বিজ্ঞানে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের বাইরে এই প্রথম কোনো উপগ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যা এক্সোমুন নামে পরিচিত। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের তথ্য সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই আবিষ্কার মহাজাগতিক বস্তুর গঠন এবং বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের পুরোনো ধারণাগুলোকে নতুনভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ করে দেবে।

বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল চিলিতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’ (ভিএলটি) ব্যবহার করে এই উপগ্রহটি শনাক্ত করেন। পৃথিবী থেকে মাত্র ৭১ আলোকবর্ষ দূরের ‘সিডি-৩৫ ২৭৭২’ নামক একটি নক্ষত্রব্যবস্থায় এর অবস্থান। মহাজাগতিক হিসেবে দূরত্বটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও, আবিষ্কৃত এই উপগ্রহ এবং এর অভিভাবক বস্তুর ধরন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হতবাক করে দিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নতুন আবিষ্কৃত এই উপগ্রহ বিশাল আকারের; এটি ভরে অন্তত আমাদের সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির সমান। এর চেয়েও বড় বিস্ময় হলো—উপগ্রহটি যাকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, সেটি সাধারণ কোনো গ্রহ নয়। এটি মূলত একটি ‘বাদামি বামন’। এটি এমন এক গ্যাসীয় বস্তু, যা সাধারণ গ্রহের চেয়ে অনেক বড় হলেও নক্ষত্র হওয়ার মতো পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে অক্ষম। এটি আকৃতিতে বৃহস্পতির চেয়ে প্রায় ৩৩ গুণ বড়। গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ও চিলির দিয়েগো পোর্তালেস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কেভিন হোয়াই জানান, এই বাদামি বামনগুলো সাধারণ গ্রহ ও ক্ষুদ্রতম নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী এক বিশেষ অবস্থায় থাকে।

সাধারণত সৌরজগতের বাইরের কোনো গ্রহ বা উপগ্রহকে সরাসরি দেখা কঠিন হয়, কারণ পাশের নক্ষত্রের তীব্র আলোয় তাদের অস্তিত্ব ঢাকা পড়ে যায়। তাই বিজ্ঞানীরা মূলত দুটি পরোক্ষ পদ্ধতি ব্যবহার করেন: প্রথমত, গ্রহ যখন তার নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যায়, তখন আলো সামান্য কমে যায়। এই আলোর পরিবর্তন মেপে গ্রহের আকার হিসাব করা হয়। দ্বিতীয়ত, মহাকর্ষীয় টানের কারণে নক্ষত্রের মধ্যে যে সামান্য কম্পন বা পরিবর্তন তৈরি হয়, তা পর্যবেক্ষণ করে ভর বের করা হয়। ‘সিডি-৩৫ ২৭৭২’ নক্ষত্রব্যবস্থার বাদামি বামনটি বিশাল আকারের হওয়ায় ২০১১ সালেই সাধারণ অপটিক্যাল টেলিস্কোপে ধরা পড়েছিল। তবে ৭১ আলোকবর্ষ দূর থেকে এর চারপাশের এই উপগ্রহকে সরাসরি দেখা সম্ভব ছিল না। গবেষক কেভিন হোয়াই ও তার দল ‘রেডিয়াল ভেলোসিটি’ পদ্ধতি ব্যবহার করে বাদামি বামনটির ভেতরের মহাকর্ষীয় কম্পন পরিমাপ করেন এবং এভাবেই নতুন এই বিশাল উপগ্রহটির আকার ও উপস্থিতি নিশ্চিত করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই সনদের আইনি বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য

সৌরজগতের বাইরে প্রথম উপগ্রহের সন্ধান, মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় : ০২:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মহাকাশ বিজ্ঞানে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের বাইরে এই প্রথম কোনো উপগ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যা এক্সোমুন নামে পরিচিত। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের তথ্য সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই আবিষ্কার মহাজাগতিক বস্তুর গঠন এবং বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের পুরোনো ধারণাগুলোকে নতুনভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ করে দেবে।

বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল চিলিতে অবস্থিত ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির ‘ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ’ (ভিএলটি) ব্যবহার করে এই উপগ্রহটি শনাক্ত করেন। পৃথিবী থেকে মাত্র ৭১ আলোকবর্ষ দূরের ‘সিডি-৩৫ ২৭৭২’ নামক একটি নক্ষত্রব্যবস্থায় এর অবস্থান। মহাজাগতিক হিসেবে দূরত্বটি তুলনামূলকভাবে কম হলেও, আবিষ্কৃত এই উপগ্রহ এবং এর অভিভাবক বস্তুর ধরন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হতবাক করে দিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নতুন আবিষ্কৃত এই উপগ্রহ বিশাল আকারের; এটি ভরে অন্তত আমাদের সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতির সমান। এর চেয়েও বড় বিস্ময় হলো—উপগ্রহটি যাকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, সেটি সাধারণ কোনো গ্রহ নয়। এটি মূলত একটি ‘বাদামি বামন’। এটি এমন এক গ্যাসীয় বস্তু, যা সাধারণ গ্রহের চেয়ে অনেক বড় হলেও নক্ষত্র হওয়ার মতো পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনে অক্ষম। এটি আকৃতিতে বৃহস্পতির চেয়ে প্রায় ৩৩ গুণ বড়। গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ও চিলির দিয়েগো পোর্তালেস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কেভিন হোয়াই জানান, এই বাদামি বামনগুলো সাধারণ গ্রহ ও ক্ষুদ্রতম নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী এক বিশেষ অবস্থায় থাকে।

সাধারণত সৌরজগতের বাইরের কোনো গ্রহ বা উপগ্রহকে সরাসরি দেখা কঠিন হয়, কারণ পাশের নক্ষত্রের তীব্র আলোয় তাদের অস্তিত্ব ঢাকা পড়ে যায়। তাই বিজ্ঞানীরা মূলত দুটি পরোক্ষ পদ্ধতি ব্যবহার করেন: প্রথমত, গ্রহ যখন তার নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যায়, তখন আলো সামান্য কমে যায়। এই আলোর পরিবর্তন মেপে গ্রহের আকার হিসাব করা হয়। দ্বিতীয়ত, মহাকর্ষীয় টানের কারণে নক্ষত্রের মধ্যে যে সামান্য কম্পন বা পরিবর্তন তৈরি হয়, তা পর্যবেক্ষণ করে ভর বের করা হয়। ‘সিডি-৩৫ ২৭৭২’ নক্ষত্রব্যবস্থার বাদামি বামনটি বিশাল আকারের হওয়ায় ২০১১ সালেই সাধারণ অপটিক্যাল টেলিস্কোপে ধরা পড়েছিল। তবে ৭১ আলোকবর্ষ দূর থেকে এর চারপাশের এই উপগ্রহকে সরাসরি দেখা সম্ভব ছিল না। গবেষক কেভিন হোয়াই ও তার দল ‘রেডিয়াল ভেলোসিটি’ পদ্ধতি ব্যবহার করে বাদামি বামনটির ভেতরের মহাকর্ষীয় কম্পন পরিমাপ করেন এবং এভাবেই নতুন এই বিশাল উপগ্রহটির আকার ও উপস্থিতি নিশ্চিত করেন।