নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন দলের দুই তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস শুধু মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, অভিবাসী পরিবারের সংগ্রাম থেকে উঠে এসে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর গল্প দিয়েও আলোচনায় রয়েছেন। নিকো উইলিয়ামস সম্প্রতি ২৪ বছরে পা দিয়েছেন, আর লামিন ইয়ামাল ১৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত দুটি শিরোপা—২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও ২০২৬ বিশ্বকাপ—জয় করেছেন। মাঠের বাইরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই দুই ফুটবলারকে অনেকেই আধুনিক স্পেনের প্রতীক হিসেবে দেখেন। নেতৃত্ব ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোইসেস রুইসের ভাষায়, তারা নতুন স্পেনের ইতিবাচক প্রতীক এবং প্রতিকূলতা জয় করে উঠে আসা দুই তরুণ।
ভালো জীবনের খোঁজে উইলিয়ামস পরিবার। নিকো ও তার বড় ভাই ইনিয়াকি উইলিয়ামসের জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্পেনে হলেও তাদের বাবা-মা ঘানা থেকে উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে পাড়ি জমান। ১৯৯৪ সালে মারিয়া ও ফেলিক্স উইলিয়ামস দীর্ঘ ও কষ্টকর পথ পাড়ি দিয়ে স্পেনে পৌঁছান। যাত্রাপথে তারা সাহারা মরুভূমির অংশ হেঁটে অতিক্রম করেন। পরবর্তীতে কারিতাসের সহায়তায় তারা বিলবাওয়ে বসবাস শুরু করেন। পরে কাজের খোঁজে পরিবারটি পাম্পলোনায় চলে যায়। সেখানে ২০০২ সালে জন্ম নেন নিকো উইলিয়ামস। নিকো এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার বাবা-মা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন যাতে তিনি ও তার ভাই ভালো ভবিষ্যৎ পান। তাদের সংগ্রাম, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের জন্য তিনি সবসময় কৃতজ্ঞ।
পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে নিকোর বাবা দীর্ঘ সময় লন্ডনে কাজ করেন। এ সময় বড় ভাই ইনিয়াকি নিকোর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। স্কুলে আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে ফুটবলার হিসেবে গড়ে ওঠার পথেও ইনিয়াকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দুই ভাইই পরে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের হয়ে খেলেন। ইনিয়াকি পরবর্তীতে ঘানার জাতীয় দলের হয়ে খেললেও নিকো স্পেনের প্রতিনিধিত্ব করেন। লামিন ইয়ামালের পরিবারও আফ্রিকান অভিবাসী। তার বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কো থেকে এবং মা শেইলা এবানা ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে স্পেনে আসেন। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে তার দাদি ফাতিমা মরক্কো থেকে একাই স্পেনে পাড়ি জমান এবং কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের অন্য সদস্যদের সেখানে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে পরিবারটি বার্সেলোনার উপকণ্ঠের শ্রমজীবী এলাকা রোকাফোন্দ-এ বসবাস শুরু করে।
রিপোর্টারের নাম 






















