ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপের জীবন্ত ‘আর্কাইভ’: ৯১ বছর বয়সেও মার্কেসের অদম্য আগ্রহ

এক জীবনে কয়টি বিশ্বকাপ দেখা সম্ভব? অনেকের কাছে হয়তো দু-একটি, ভাগ্যবানদের জন্য হয়তো তিন-চারটি। কিন্তু যদি কেউ ১৮টি বিশ্বকাপ দেখে ফেলেন, পেলে থেকে মেসি পর্যন্ত সকল তারকার পারফরম্যান্স নোটবুকে টুকে রাখেন, তবে তাকে কী বলা যায়? ফুটবল সাংবাদিকতায় তিনি এক জীবন্ত আর্কাইভ। ৯১ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ক্রীড়া সাংবাদিক এনরিকে ম্যাকাইয়া মার্কেস এমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি পেলের প্রথম বিশ্বকাপ দেখেছেন, ম্যারাডোনার হাতে ট্রফি উঠতে দেখেছেন, মেসির অশ্রু দেখেছেন এবং অবশেষে তার বিশ্বজয়ও প্রত্যক্ষ করেছেন। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুহূর্তগুলোর নীরব সাক্ষী তিনি।

এখনও কাঁধে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড ঝুলিয়ে বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে ঘুরে বেড়ান মার্কেস। সদ্য সমাপ্ত কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলন শেষে কোচ লিওনেল স্কালোনি নিজেই এগিয়ে এসে তার সঙ্গে ছবি তোলেন। কারণ, মার্কেস শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি যেন ফুটবল ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। চলতি বিশ্বকাপটি ছিল তার জীবনের ১৮তম বিশ্বকাপ। ১৯৫৮ সালে সুইডেনে শুরু হওয়া তার এই অবিরাম যাত্রা আজও থামেনি। টানা ১৮টি পুরুষ বিশ্বকাপ কাভার করার এমন নজির ফুটবল সাংবাদিকতায় আর নেই বললেই চলে।

তার বিশ্বকাপ যাত্রার শুরু হয়েছিল ১৯৫৮ সালে সুইডেনে, মাত্র ২৪ বছর বয়সে। সেই বিশ্বকাপে বিশ্ব দেখেছিল ১৭ বছর বয়সী বিস্ময় বালক পেলের আবির্ভাব। তবে একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে মার্কেসের মনে সবচেয়ে গভীর ছাপ ফেলেছিল অন্য একটি ম্যাচ। চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে আর্জেন্টিনার ৬-১ গোলের বিধ্বংসী হার, যা পরে ইতিহাসে ‘ডিজাস্টার অব সুইডেন’ নামে পরিচিতি পায়। আজও সেই পরাজয়ের স্মৃতি ভুলতে পারেননি মার্কেস। তিনি বলেন, ‘এটা ছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জন্য এক ভয়াবহ পরাজয়। চেকোস্লোভাকিয়া সম্পর্কে আমাদের কোনো তথ্যই ছিল না। আমরা জানতামই না তারা কতটা শক্তিশালী। তারা আমাদের পুরোপুরি হতবাক করেছিল।’

মার্কেস জীবনের নয়টি দশক পার করেছেন। তরুণ বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ কাভার করা এই প্রবীণ সাংবাদিকের চোখের সামনে পুরো ফুটবল বিশ্ব বদলে গেছে। সাদাকালো টেলিভিশন রঙিন হয়েছে, তারপর এসেছে ডিজিটাল যুগ। খেলার পরিসংখ্যান এখন মুহূর্তেই হাতে চলে আসে। বিশ্বকাপও পরিণত হয়েছে কোটি কোটি মানুষের এক মহা উৎসবে। এতকিছুর সাক্ষী হয়েও মার্কেসের ফুটবল প্রীতি এবং সাংবাদিকতার প্রতি ভালোবাসা অটুট রয়েছে, যা তাকে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যানবাহনের অবাধ চলাচল ও অবৈধ স্থাপনা: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়ায় তীব্র যানজট

ফুটবল বিশ্বকাপের জীবন্ত ‘আর্কাইভ’: ৯১ বছর বয়সেও মার্কেসের অদম্য আগ্রহ

আপডেট সময় : ০৯:১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

এক জীবনে কয়টি বিশ্বকাপ দেখা সম্ভব? অনেকের কাছে হয়তো দু-একটি, ভাগ্যবানদের জন্য হয়তো তিন-চারটি। কিন্তু যদি কেউ ১৮টি বিশ্বকাপ দেখে ফেলেন, পেলে থেকে মেসি পর্যন্ত সকল তারকার পারফরম্যান্স নোটবুকে টুকে রাখেন, তবে তাকে কী বলা যায়? ফুটবল সাংবাদিকতায় তিনি এক জীবন্ত আর্কাইভ। ৯১ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ক্রীড়া সাংবাদিক এনরিকে ম্যাকাইয়া মার্কেস এমনই এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি পেলের প্রথম বিশ্বকাপ দেখেছেন, ম্যারাডোনার হাতে ট্রফি উঠতে দেখেছেন, মেসির অশ্রু দেখেছেন এবং অবশেষে তার বিশ্বজয়ও প্রত্যক্ষ করেছেন। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুহূর্তগুলোর নীরব সাক্ষী তিনি।

এখনও কাঁধে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড ঝুলিয়ে বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে ঘুরে বেড়ান মার্কেস। সদ্য সমাপ্ত কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলন শেষে কোচ লিওনেল স্কালোনি নিজেই এগিয়ে এসে তার সঙ্গে ছবি তোলেন। কারণ, মার্কেস শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি যেন ফুটবল ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। চলতি বিশ্বকাপটি ছিল তার জীবনের ১৮তম বিশ্বকাপ। ১৯৫৮ সালে সুইডেনে শুরু হওয়া তার এই অবিরাম যাত্রা আজও থামেনি। টানা ১৮টি পুরুষ বিশ্বকাপ কাভার করার এমন নজির ফুটবল সাংবাদিকতায় আর নেই বললেই চলে।

তার বিশ্বকাপ যাত্রার শুরু হয়েছিল ১৯৫৮ সালে সুইডেনে, মাত্র ২৪ বছর বয়সে। সেই বিশ্বকাপে বিশ্ব দেখেছিল ১৭ বছর বয়সী বিস্ময় বালক পেলের আবির্ভাব। তবে একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে মার্কেসের মনে সবচেয়ে গভীর ছাপ ফেলেছিল অন্য একটি ম্যাচ। চেকোস্লোভাকিয়ার কাছে আর্জেন্টিনার ৬-১ গোলের বিধ্বংসী হার, যা পরে ইতিহাসে ‘ডিজাস্টার অব সুইডেন’ নামে পরিচিতি পায়। আজও সেই পরাজয়ের স্মৃতি ভুলতে পারেননি মার্কেস। তিনি বলেন, ‘এটা ছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জন্য এক ভয়াবহ পরাজয়। চেকোস্লোভাকিয়া সম্পর্কে আমাদের কোনো তথ্যই ছিল না। আমরা জানতামই না তারা কতটা শক্তিশালী। তারা আমাদের পুরোপুরি হতবাক করেছিল।’

মার্কেস জীবনের নয়টি দশক পার করেছেন। তরুণ বয়সে প্রথম বিশ্বকাপ কাভার করা এই প্রবীণ সাংবাদিকের চোখের সামনে পুরো ফুটবল বিশ্ব বদলে গেছে। সাদাকালো টেলিভিশন রঙিন হয়েছে, তারপর এসেছে ডিজিটাল যুগ। খেলার পরিসংখ্যান এখন মুহূর্তেই হাতে চলে আসে। বিশ্বকাপও পরিণত হয়েছে কোটি কোটি মানুষের এক মহা উৎসবে। এতকিছুর সাক্ষী হয়েও মার্কেসের ফুটবল প্রীতি এবং সাংবাদিকতার প্রতি ভালোবাসা অটুট রয়েছে, যা তাকে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।