ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কোটি কোটি বছর আগে সাপেরও ছিল পা, বিলুপ্তির রহস্য উন্মোচন

মাটির ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে চলা কিংবা গাছে চড়া ও পানিতে ভেসে বেড়ানো সাপ দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, পা ছাড়াই কীভাবে এই প্রাণী এত সাবলীলভাবে চলাচল করে? আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও সাপের শরীরের বিশেষ কিছু বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই এটি সম্ভব হয়। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোটি কোটি বছর আগে সাপেরও পা ছিল। প্রাচীন জীবাশ্ম ও বংশগতিবিদ্যার গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এসেছে আর্জেন্টিনার একটি প্রাচীন সাপের জীবাশ্ম থেকে, যার নাম ‘নাজাশ রিয়োনেগ্রিনা’। প্রায় ১০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বাস করা এই সাপের ছোট হলেও দুটি স্পষ্ট পেছনের পা ছিল বলে জানা গেছে। এছাড়াও, প্রায় ১২ কোটি বছর আগের ‘টেট্রাপোডোফিস’ নামের চার পায়ের একটি সরীসৃপের জীবাশ্মও পাওয়া গেছে, যা সাপ ও টিকটিকির মধ্যবর্তী বিবর্তনকে নির্দেশ করে।

শুধুমাত্র জীবাশ্ম নয়, বংশগতিবিদ্যার গবেষণাতেও সাপের পা থাকার প্রমাণ মিলেছে। এক গবেষণায় দেখা যায়, আধুনিক সাপের ভ্রূণে পা গজানোর জন্য প্রয়োজনীয় জেনেটিক কোষ এখনও সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা আরও দেখতে পান যে, ‘সনিক হেজহগ’ নামের একটি জিন টিকটিকির পায়ের আকার নির্ধারণ করে। বিবর্তনের ধারায় অজগর, ভাইপার ও কোবরার মতো সাপের ডিএনএ থেকে এই জিনের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তবে আজও অজগরের লেজের কাছে ‘স্পার্স’ নামে ছোট যে কাঁটার মতো কাঠামো দেখা যায়, তা মূলত তাদের পূর্বপুরুষদের পেছনের পায়েরই বিবর্তিত অবশিষ্টাংশ।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাচীন সাপগুলো এমন পরিবেশে মানিয়ে নিয়েছিল যেখানে পা থাকাটা সুবিধার চেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ধারণা করা হয়, প্রাচীন সাপগুলো মূলত মাটির নিচে গর্তে এবং পাথর বা উদ্ভিদের সংকীর্ণ জায়গায় বাস করত। সরু সুড়ঙ্গে চলাচলের জন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গহীন দীর্ঘ শরীরই ছিল বেশি কার্যকর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সাপের বাইরের পাগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়, যা তাদের বর্তমান রূপ ধারণ করতে সাহায্য করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই সনদের আইনি বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য

কোটি কোটি বছর আগে সাপেরও ছিল পা, বিলুপ্তির রহস্য উন্মোচন

আপডেট সময় : ০২:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

মাটির ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে চলা কিংবা গাছে চড়া ও পানিতে ভেসে বেড়ানো সাপ দেখে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, পা ছাড়াই কীভাবে এই প্রাণী এত সাবলীলভাবে চলাচল করে? আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও সাপের শরীরের বিশেষ কিছু বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই এটি সম্ভব হয়। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোটি কোটি বছর আগে সাপেরও পা ছিল। প্রাচীন জীবাশ্ম ও বংশগতিবিদ্যার গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এসেছে আর্জেন্টিনার একটি প্রাচীন সাপের জীবাশ্ম থেকে, যার নাম ‘নাজাশ রিয়োনেগ্রিনা’। প্রায় ১০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বাস করা এই সাপের ছোট হলেও দুটি স্পষ্ট পেছনের পা ছিল বলে জানা গেছে। এছাড়াও, প্রায় ১২ কোটি বছর আগের ‘টেট্রাপোডোফিস’ নামের চার পায়ের একটি সরীসৃপের জীবাশ্মও পাওয়া গেছে, যা সাপ ও টিকটিকির মধ্যবর্তী বিবর্তনকে নির্দেশ করে।

শুধুমাত্র জীবাশ্ম নয়, বংশগতিবিদ্যার গবেষণাতেও সাপের পা থাকার প্রমাণ মিলেছে। এক গবেষণায় দেখা যায়, আধুনিক সাপের ভ্রূণে পা গজানোর জন্য প্রয়োজনীয় জেনেটিক কোষ এখনও সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা আরও দেখতে পান যে, ‘সনিক হেজহগ’ নামের একটি জিন টিকটিকির পায়ের আকার নির্ধারণ করে। বিবর্তনের ধারায় অজগর, ভাইপার ও কোবরার মতো সাপের ডিএনএ থেকে এই জিনের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তবে আজও অজগরের লেজের কাছে ‘স্পার্স’ নামে ছোট যে কাঁটার মতো কাঠামো দেখা যায়, তা মূলত তাদের পূর্বপুরুষদের পেছনের পায়েরই বিবর্তিত অবশিষ্টাংশ।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাচীন সাপগুলো এমন পরিবেশে মানিয়ে নিয়েছিল যেখানে পা থাকাটা সুবিধার চেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ধারণা করা হয়, প্রাচীন সাপগুলো মূলত মাটির নিচে গর্তে এবং পাথর বা উদ্ভিদের সংকীর্ণ জায়গায় বাস করত। সরু সুড়ঙ্গে চলাচলের জন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গহীন দীর্ঘ শরীরই ছিল বেশি কার্যকর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সাপের বাইরের পাগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়, যা তাদের বর্তমান রূপ ধারণ করতে সাহায্য করেছে।