ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

২৩ বছর পর সাফ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ

২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছিল। প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন আমিনুল, আলফাজরা। ফাইনাল ম্যাচটি নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই থেকে দেশের ফুটবলে আর কোনো সাফ শিরোপা আসেনি। এখন পর্যন্ত সাফে বাংলাদেশের এটিই একমাত্র শিরোপা। এবার ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে ওঠার দারুণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

আগামী ৪-১৭ নভেম্বর ঢাকায় বসবে টুর্নামেন্টের ১৫তম আসর। ২০২০ সালে আসরটি হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৮ সালের পর চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে সাফ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে গত ২৫ জুলাই টুর্নামেন্টের লোগো উন্মোচন হয়েছে এবং ১ আগস্ট টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাফের দামামা যখন বেজে উঠেছে, তখনই দেশের ফুটবলে আশার সঞ্চার হয়েছে। কেননা গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ দল পুরোপুরি বদলে গেছে। দেওয়ান হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলাম, কিউবা মিচেলদের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা জাতীয় দলে যোগ দিয়েছেন। প্রবাসী ও দেশীয় ফুটবলারদের যে মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশ দলের শক্তি বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। দলের সাহসী মানসিকতা, খেলার ধরন এবং উজ্জ্বল পারফরম্যান্স মিলে ফুটবলে এখন এক নতুন বাংলাদেশ দেখা যাচ্ছে।

এবারই প্রথম সাফের মঞ্চে দেখা যাবে হামজা, শমিত, ফাহামিদুলদের। তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং খেলার ধরন—সব মিলিয়ে আসন্ন টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হবে। সাফে ভারত, নেপাল কিংবা মালদ্বীপের মতো দলগুলো সব সময়ই শক্ত প্রতিপক্ষ। তবে সাফে দলীয় শক্তি এবং হোম কন্ডিশন মিলে বাংলাদেশই সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবে। দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে এখন সেরা দলের তকমা পাচ্ছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। তাদের ঘিরেই ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সামনে আবার সাফ শিরোপা জয়ের হাতছানি।

ইতোমধ্যে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে লক্ষ্য পূরণ না হলেও, হামজা-শমিতরা সম্ভাবনাময় ফুটবল খেলেছেন। ২২ বছর পর ফুটবলে ভারতের বিপক্ষে জয়ের কীর্তি দেখিয়েছে তারা। সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের বিপক্ষে জিততে না পারলেও লড়াকু ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে ইউরোপের দল সান মারিনোর বিপক্ষে ২-১ গোলে ঐতিহাসিক জয় লাভ করে তারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব বাড়ল ৭ হাজার

২৩ বছর পর সাফ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১০:১৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

২০০৩ সালের ১৭ জানুয়ারি, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছিল। প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন আমিনুল, আলফাজরা। ফাইনাল ম্যাচটি নির্ধারিত সময় ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই থেকে দেশের ফুটবলে আর কোনো সাফ শিরোপা আসেনি। এখন পর্যন্ত সাফে বাংলাদেশের এটিই একমাত্র শিরোপা। এবার ২৩ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে ওঠার দারুণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

আগামী ৪-১৭ নভেম্বর ঢাকায় বসবে টুর্নামেন্টের ১৫তম আসর। ২০২০ সালে আসরটি হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। ২০০৩, ২০০৯ ও ২০১৮ সালের পর চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে সাফ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে গত ২৫ জুলাই টুর্নামেন্টের লোগো উন্মোচন হয়েছে এবং ১ আগস্ট টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাফের দামামা যখন বেজে উঠেছে, তখনই দেশের ফুটবলে আশার সঞ্চার হয়েছে। কেননা গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ দল পুরোপুরি বদলে গেছে। দেওয়ান হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলাম, কিউবা মিচেলদের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়রা জাতীয় দলে যোগ দিয়েছেন। প্রবাসী ও দেশীয় ফুটবলারদের যে মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে, তা বাংলাদেশ দলের শক্তি বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। দলের সাহসী মানসিকতা, খেলার ধরন এবং উজ্জ্বল পারফরম্যান্স মিলে ফুটবলে এখন এক নতুন বাংলাদেশ দেখা যাচ্ছে।

এবারই প্রথম সাফের মঞ্চে দেখা যাবে হামজা, শমিত, ফাহামিদুলদের। তাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং খেলার ধরন—সব মিলিয়ে আসন্ন টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী দল হিসেবে আবির্ভূত হবে। সাফে ভারত, নেপাল কিংবা মালদ্বীপের মতো দলগুলো সব সময়ই শক্ত প্রতিপক্ষ। তবে সাফে দলীয় শক্তি এবং হোম কন্ডিশন মিলে বাংলাদেশই সবার চেয়ে এগিয়ে থাকবে। দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে এখন সেরা দলের তকমা পাচ্ছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। তাদের ঘিরেই ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সামনে আবার সাফ শিরোপা জয়ের হাতছানি।

ইতোমধ্যে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে লক্ষ্য পূরণ না হলেও, হামজা-শমিতরা সম্ভাবনাময় ফুটবল খেলেছেন। ২২ বছর পর ফুটবলে ভারতের বিপক্ষে জয়ের কীর্তি দেখিয়েছে তারা। সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ের বিপক্ষে জিততে না পারলেও লড়াকু ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে ইউরোপের দল সান মারিনোর বিপক্ষে ২-১ গোলে ঐতিহাসিক জয় লাভ করে তারা।