ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সুপার টাইফুন ‘নউল’ : চীনে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে, বন্ধ ট্রেন চলাচল

শক্তিশালী টাইফুন ‘নউল’ উপকূলের দিকে দ্রুত ধেয়ে আসার পরিপ্রেক্ষিতে চীনের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইতোমধ্যে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে ট্রেন চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকালের মধ্যে হংকং থেকে গুয়াংডং প্রদেশ পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় টাইফুনটি আঘাত হানতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘কমলা সতর্কতা’ বহাল রেখেছে আবহাওয়া অফিস। সংস্থাটি জানায়, গুয়াংডং ও পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশের কিছু এলাকায় প্রবল ঝোড়ো বাতাস ও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, শুক্রবার রাত পর্যন্ত গুয়াংডং প্রদেশে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাগরে থাকা মাছ ধরার সব নৌযানকে নিরাপদে বন্দরে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো বন্দরে ফিরে এসেছে।

ট্রেন চলাচলেও এর বড় প্রভাব পড়েছে। সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সকালে গুয়াংডংয়ে কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে রোববার প্রদেশটির সব ধরনের ট্রেন পরিষেবা স্থগিত থাকবে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, গুয়াংডং প্রদেশের চাওঝৌ শহরের স্কুলগুলোর যাবতীয় শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসেই চরম আবহাওয়ার কারণে চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সম্প্রতি গুয়াংশি অঞ্চলে টাইফুন ‘মায়সাক’-এর প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জন নিহত হন। এ ছাড়া মায়সাকের প্রভাবে মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও প্রবল বাতাসে আরো ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হন। বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করছেন যে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের চেয়ে আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এনসিপির আন্দোলন প্রস্তুতি

সুপার টাইফুন ‘নউল’ : চীনে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে, বন্ধ ট্রেন চলাচল

আপডেট সময় : ০৮:১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

শক্তিশালী টাইফুন ‘নউল’ উপকূলের দিকে দ্রুত ধেয়ে আসার পরিপ্রেক্ষিতে চীনের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইতোমধ্যে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে ট্রেন চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকালের মধ্যে হংকং থেকে গুয়াংডং প্রদেশ পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় টাইফুনটি আঘাত হানতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ‘কমলা সতর্কতা’ বহাল রেখেছে আবহাওয়া অফিস। সংস্থাটি জানায়, গুয়াংডং ও পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশের কিছু এলাকায় প্রবল ঝোড়ো বাতাস ও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, শুক্রবার রাত পর্যন্ত গুয়াংডং প্রদেশে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাগরে থাকা মাছ ধরার সব নৌযানকে নিরাপদে বন্দরে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো বন্দরে ফিরে এসেছে।

ট্রেন চলাচলেও এর বড় প্রভাব পড়েছে। সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সকালে গুয়াংডংয়ে কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে রোববার প্রদেশটির সব ধরনের ট্রেন পরিষেবা স্থগিত থাকবে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, গুয়াংডং প্রদেশের চাওঝৌ শহরের স্কুলগুলোর যাবতীয় শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসেই চরম আবহাওয়ার কারণে চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সম্প্রতি গুয়াংশি অঞ্চলে টাইফুন ‘মায়সাক’-এর প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জন নিহত হন। এ ছাড়া মায়সাকের প্রভাবে মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও প্রবল বাতাসে আরো ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হন। বিজ্ঞানীরা বারবার সতর্ক করছেন যে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের চেয়ে আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে।