ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এনসিপির আন্দোলন প্রস্তুতি

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সরকার গঠিত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটিকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে গণভোট ও ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে সংবিধানের আমূল সংস্কারের দাবিতে তীব্র রাজপথের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা অনুযায়ী, সরকার দ্রুত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নিলে শিগগিরই কড়া কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। এনসিপি নেতাদের মতে, বিদ্যমান সংবিধানের মৌলিক ও আমূল পরিবর্তন ব্যতীত কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়।

গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হলে বিরোধী দলগুলো অধিবেশন ত্যাগ (ওয়াকআউট) করে তা প্রত্যাখ্যান করে। তাদের অনড় দাবি—কোনো কমিটি নয়, বরং একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য এবং সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁরা দ্বৈত শপথ নিয়েছেন এবং গণভোটের রায়কে এড়িয়ে এই ধরণের বিশেষ কমিটি গঠন জনগণের অভিপ্রায়ের সরাসরি অপমান।

মূলত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তৈরি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ৪৮টি প্রস্তাবের ওপর আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিপুল রায় এলেও তা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী জোটের তীব্র দ্বিমত তৈরি হয়েছে। বিএনপি নিজস্ব ভিন্নমত বজায় রেখে কেবল সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের পক্ষে; বিপরীতে জামায়াত ও এনসিপি গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলোর হুবহু বাস্তবায়ন চাচ্ছে। তবে গণভোটের বিধান মতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর দ্বৈত শপথ বিরোধী দল নিলেও বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে নির্ধারিত ১৫ মার্চের সময়সীমা অতিক্রম করায় এই পরিষদ গঠন জটিলতায় পড়ে।

এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ৭০ শতাংশ জনগণের সমর্থনপুষ্ট এই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে বিএনপি সরে এসেছে। তিনি অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদে আলোচনার সুযোগ এখনো থাকলেও সরকার তা না শুনলে জুলাই বিপ্লবের অংশীজন ও শহীদ পরিবারগুলোকে সাথে নিয়ে কঠোর রাজপথের আন্দোলন ও হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।

একই সুর ব্যক্ত করে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, সরকারের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ চলছে এবং দ্রুতই পরবর্তী আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। সংবিধান সংস্কার না হলে যেকোনো মুহূর্তে সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হতে পারে বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

যানবাহনের অবাধ চলাচল ও অবৈধ স্থাপনা: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়ায় তীব্র যানজট

সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এনসিপির আন্দোলন প্রস্তুতি

আপডেট সময় : ১১:০২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সরকার গঠিত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটিকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে গণভোট ও ‘জুলাই সনদ’-এর ভিত্তিতে সংবিধানের আমূল সংস্কারের দাবিতে তীব্র রাজপথের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা অনুযায়ী, সরকার দ্রুত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নিলে শিগগিরই কড়া কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে। এনসিপি নেতাদের মতে, বিদ্যমান সংবিধানের মৌলিক ও আমূল পরিবর্তন ব্যতীত কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র সংস্কার সম্ভব নয়।

গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হলে বিরোধী দলগুলো অধিবেশন ত্যাগ (ওয়াকআউট) করে তা প্রত্যাখ্যান করে। তাদের অনড় দাবি—কোনো কমিটি নয়, বরং একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য এবং সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁরা দ্বৈত শপথ নিয়েছেন এবং গণভোটের রায়কে এড়িয়ে এই ধরণের বিশেষ কমিটি গঠন জনগণের অভিপ্রায়ের সরাসরি অপমান।

মূলত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের তৈরি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ৪৮টি প্রস্তাবের ওপর আয়োজিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিপুল রায় এলেও তা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী জোটের তীব্র দ্বিমত তৈরি হয়েছে। বিএনপি নিজস্ব ভিন্নমত বজায় রেখে কেবল সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের পক্ষে; বিপরীতে জামায়াত ও এনসিপি গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলোর হুবহু বাস্তবায়ন চাচ্ছে। তবে গণভোটের বিধান মতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর দ্বৈত শপথ বিরোধী দল নিলেও বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করে। ফলে নির্ধারিত ১৫ মার্চের সময়সীমা অতিক্রম করায় এই পরিষদ গঠন জটিলতায় পড়ে।

এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ৭০ শতাংশ জনগণের সমর্থনপুষ্ট এই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে বিএনপি সরে এসেছে। তিনি অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদে আলোচনার সুযোগ এখনো থাকলেও সরকার তা না শুনলে জুলাই বিপ্লবের অংশীজন ও শহীদ পরিবারগুলোকে সাথে নিয়ে কঠোর রাজপথের আন্দোলন ও হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।

একই সুর ব্যক্ত করে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, সরকারের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ চলছে এবং দ্রুতই পরবর্তী আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। সংবিধান সংস্কার না হলে যেকোনো মুহূর্তে সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হতে পারে বলে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন।