ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

শিল্প-কারখানার বর্জ্যে হালদার পানি দূষিত, মৎস্য প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে

চট্টগ্রামের হাটহাজারী অঞ্চলে শিল্প ও কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। নগরীর অক্সিজেন, অনন্যা আবাসিক এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্প-কারখানার কালো বর্জ্য কাটাখালী ও বামনশাহী খাল হয়ে হালদা নদীতে প্রবেশ করছে। বর্ষা ও বন্যার পানির সঙ্গে মিশে এই দূষিত বর্জ্য হালদার স্বচ্ছ পানিকে কালচে ও কালো বর্ণ ধারণ করাচ্ছে, যা মা মাছ, ডলফিনসহ নদীর সমগ্র জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য এক বিরাট হুমকি সৃষ্টি করেছে।

দূষণের ফলে শিকারপুর, মধুনাঘাট ও কুয়াইশ কলেজ এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনজীবনে দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটাচ্ছে। দেশের একমাত্র মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর পানির রঙ বদলে যাওয়ায় এখানকার ডিম সংগ্রহকারীরা আশঙ্কা করছেন যে, এই অবস্থা চলতে থাকলে ঢাকা শহরের বুড়িগঙ্গার মতো হালদা নদীর অবস্থাও শোচনীয় হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, এপ্রিল থেকে জুন-জুলাই মাস পর্যন্ত হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার প্রধান মৌসুম। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নদীটি দূষিত হওয়ায় তা মা মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, হাটহাজারীর মদুনাঘাট ওয়াপদা কলোনি এলাকায় কাটাখালী খাল ও খন্দকিয়াসহ আরও কয়েকটি খালের বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি হালদা নদীতে এসে পড়ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ‘অনন্যা’ আবাসিক এলাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকার বর্জ্য প্রকল্পের মূল নালা হয়ে কুয়াইশ, কৃষ্ণ খাল ও খন্দকিয়া খালের মাধ্যমে এই দূষিত পানি হালদায় প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম শহরের বাহির সিগন্যাল, অক্সিজেন, কুলগাঁও এলাকার বিভিন্ন কলকারখানা এবং গৃহস্থালির বর্জ্য নালা-নর্দমা হয়ে খালে মিশে পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। এই দূষিত পানি পরবর্তীতে খালে প্রবাহিত হয়ে নদীতে মিশছে। হাটহাজারীর মদুনাঘাট থেকে অনন্যা আবাসিক এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই ধরনের কালো বর্জ্য এবং তৈলাক্ত দুর্গন্ধযুক্ত পানি তীব্র স্রোতে হালদা নদীতে পতিত হচ্ছে।

শিকারপুর ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান এম লোকমান হাকিমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম শহরের উত্তর চান্দগাঁও বাহির সিগন্যাল শিল্প এলাকার বেশ কিছু কারখানার নালার সঙ্গে ওসব খালের সংযোগ রয়েছে। এখানে জুতা কারখানা, চামড়া কারখানা, বস্ত্র ও পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব কারখানার বর্জ্য শহরের বামনশাহী খাল, নালা-নর্দমা ও বিল পেরিয়ে হাটহাজারীর পাঁচটি খালের মাধ্যমে হালদা নদীতে প্রবেশ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যানবাহনের অবাধ চলাচল ও অবৈধ স্থাপনা: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়ায় তীব্র যানজট

শিল্প-কারখানার বর্জ্যে হালদার পানি দূষিত, মৎস্য প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে

আপডেট সময় : ১০:২৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের হাটহাজারী অঞ্চলে শিল্প ও কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদীকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। নগরীর অক্সিজেন, অনন্যা আবাসিক এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্প-কারখানার কালো বর্জ্য কাটাখালী ও বামনশাহী খাল হয়ে হালদা নদীতে প্রবেশ করছে। বর্ষা ও বন্যার পানির সঙ্গে মিশে এই দূষিত বর্জ্য হালদার স্বচ্ছ পানিকে কালচে ও কালো বর্ণ ধারণ করাচ্ছে, যা মা মাছ, ডলফিনসহ নদীর সমগ্র জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য এক বিরাট হুমকি সৃষ্টি করেছে।

দূষণের ফলে শিকারপুর, মধুনাঘাট ও কুয়াইশ কলেজ এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনজীবনে দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটাচ্ছে। দেশের একমাত্র মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর পানির রঙ বদলে যাওয়ায় এখানকার ডিম সংগ্রহকারীরা আশঙ্কা করছেন যে, এই অবস্থা চলতে থাকলে ঢাকা শহরের বুড়িগঙ্গার মতো হালদা নদীর অবস্থাও শোচনীয় হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, এপ্রিল থেকে জুন-জুলাই মাস পর্যন্ত হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার প্রধান মৌসুম। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নদীটি দূষিত হওয়ায় তা মা মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, হাটহাজারীর মদুনাঘাট ওয়াপদা কলোনি এলাকায় কাটাখালী খাল ও খন্দকিয়াসহ আরও কয়েকটি খালের বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি হালদা নদীতে এসে পড়ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ‘অনন্যা’ আবাসিক এলাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী আবাসিক এলাকার বর্জ্য প্রকল্পের মূল নালা হয়ে কুয়াইশ, কৃষ্ণ খাল ও খন্দকিয়া খালের মাধ্যমে এই দূষিত পানি হালদায় প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম শহরের বাহির সিগন্যাল, অক্সিজেন, কুলগাঁও এলাকার বিভিন্ন কলকারখানা এবং গৃহস্থালির বর্জ্য নালা-নর্দমা হয়ে খালে মিশে পানিকে বিষাক্ত করে তুলছে। এই দূষিত পানি পরবর্তীতে খালে প্রবাহিত হয়ে নদীতে মিশছে। হাটহাজারীর মদুনাঘাট থেকে অনন্যা আবাসিক এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই ধরনের কালো বর্জ্য এবং তৈলাক্ত দুর্গন্ধযুক্ত পানি তীব্র স্রোতে হালদা নদীতে পতিত হচ্ছে।

শিকারপুর ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান এম লোকমান হাকিমসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম শহরের উত্তর চান্দগাঁও বাহির সিগন্যাল শিল্প এলাকার বেশ কিছু কারখানার নালার সঙ্গে ওসব খালের সংযোগ রয়েছে। এখানে জুতা কারখানা, চামড়া কারখানা, বস্ত্র ও পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব কারখানার বর্জ্য শহরের বামনশাহী খাল, নালা-নর্দমা ও বিল পেরিয়ে হাটহাজারীর পাঁচটি খালের মাধ্যমে হালদা নদীতে প্রবেশ করছে।