ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগ: বিস্ময়ের জন্ম এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস

দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষে মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগ দেশবাসীকে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন প্রত্যাশার আলো দেখিয়েছে। ২০২৩ সালে সবাইকে হতবাক করে দিয়ে তার রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন হওয়া যতটা বিস্ময়কর ছিল, তার বিদায় দেশবাসীকে ততটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে।

সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু তার এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর অনুরাগ ও আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে সালাম করতে দিতেন না এবং তিনি এর কারণ বুঝতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন যে, প্রধানমন্ত্রী হয়তো রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম নির্বাচন করার কারণে বিব্রত বোধ করতেন। এই ভিডিও এবং রাষ্ট্রপতির শেখ হাসিনার পা ছুঁয়ে সালাম করার একটি ছবি তখন ভার্চুয়াল জগতে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল।

২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যখন আসন্ন ছিল, তখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অন্দরমহলে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, প্রবীণ সংসদ সদস্য বা সাবেক বিচারপতিদের নাম আলোচনায় থাকলেও, সবাইকে অবাক করে দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন একজনের নাম প্রস্তাব করেন, যা দেশবাসীকে বিস্মিত করেছিল। মো. সাহাবুদ্দিন, যিনি ছিলেন একজন সাবেক বিচারক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি ছিল অনেকটাই প্রান্তিক। শেখ হাসিনার অনুগত হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই ব্যক্তিকেই বঙ্গভবনের চাবিকাঠি সঁপে দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন মেরুদণ্ডসম্পন্ন, নিরপেক্ষ বা জনমানসে গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতি নয়, বরং একজন অনুগত ব্যক্তিকেই সেই পদে বসানো হয়েছিল, যিনি বিনা প্রশ্নে দায়িত্ব পালন করবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যানবাহনের অবাধ চলাচল ও অবৈধ স্থাপনা: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লোহাগাড়ায় তীব্র যানজট

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগ: বিস্ময়ের জন্ম এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস

আপডেট সময় : ১০:২৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষে মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদত্যাগ দেশবাসীকে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং নতুন প্রত্যাশার আলো দেখিয়েছে। ২০২৩ সালে সবাইকে হতবাক করে দিয়ে তার রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন হওয়া যতটা বিস্ময়কর ছিল, তার বিদায় দেশবাসীকে ততটাই স্বস্তি এনে দিয়েছে।

সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু তার এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর অনুরাগ ও আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে সালাম করতে দিতেন না এবং তিনি এর কারণ বুঝতে পারছিলেন না। পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন যে, প্রধানমন্ত্রী হয়তো রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম নির্বাচন করার কারণে বিব্রত বোধ করতেন। এই ভিডিও এবং রাষ্ট্রপতির শেখ হাসিনার পা ছুঁয়ে সালাম করার একটি ছবি তখন ভার্চুয়াল জগতে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল।

২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন যখন আসন্ন ছিল, তখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অন্দরমহলে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, প্রবীণ সংসদ সদস্য বা সাবেক বিচারপতিদের নাম আলোচনায় থাকলেও, সবাইকে অবাক করে দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন একজনের নাম প্রস্তাব করেন, যা দেশবাসীকে বিস্মিত করেছিল। মো. সাহাবুদ্দিন, যিনি ছিলেন একজন সাবেক বিচারক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে তার পরিচিতি ছিল অনেকটাই প্রান্তিক। শেখ হাসিনার অনুগত হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই ব্যক্তিকেই বঙ্গভবনের চাবিকাঠি সঁপে দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন মেরুদণ্ডসম্পন্ন, নিরপেক্ষ বা জনমানসে গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতি নয়, বরং একজন অনুগত ব্যক্তিকেই সেই পদে বসানো হয়েছিল, যিনি বিনা প্রশ্নে দায়িত্ব পালন করবেন।