ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

সৌদি-হুতি পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

ইয়েমেনের সংঘাত নিরসনের নানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে আবারও তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে একের পর এক সামরিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ হুতি গোষ্ঠী একটি সংকেতবাহী বার্তার মাধ্যমে সৌদি আরবের ইয়ানবু ও জিজান শহর লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানোর দাবি করেছে। হুতিদের ভাষ্যমতে, তারা এই দুই শহরের একাধিক তেল স্থাপনায় ১২টির বেশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইয়েমেন-নির্মিত ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটি সামরিক অভিযানটিকে পুরোপুরি সফল দাবি করে জানিয়েছে যে তাদের নির্ধারিত সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, হুতিদের দিক থেকে আসা সব হামলা আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

সৌদি আরব কর্তৃক ইয়েমেনের হোদাইদাহ প্রদেশ এবং লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কামারান দ্বীপে হামলার একদিন পরই হুতিদের এই পাল্টা জবাব এল। সৌদি আরব দাবি করছে, তারা কামারান দ্বীপে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বাব আল-মানদেবে চলাচলকারী জাহাজে একের পর এক হামলার প্রেক্ষাপটে দ্বীপটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এই উত্তেজনা বৃদ্ধির সময়ে ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং ওমানের কর্মকর্তারা উভয় পক্ষকে অবিলম্বে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি বৈঠকের লক্ষ্যে জাতিসংঘ, সৌদি আরব এবং আনসারুল্লাহ হুতিদের বেশ কয়েকজন শীর্ষ প্রতিনিধি বর্তমানে ওমানে অবস্থান করছেন। তবে কূটনীতিকদের মতে, বৈঠক শুরু হওয়ার আগে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ হোদাইদাহ বন্দরের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা।

হুতিদের বার্তা স্পষ্ট—সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও নৌ-অবরোধ জারি রাখবে। সেক্ষেত্রে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর তেল স্থাপনাগুলোই তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব বাড়ল ৭ হাজার

সৌদি-হুতি পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

আপডেট সময় : ১০:১৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ইয়েমেনের সংঘাত নিরসনের নানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সৌদি আরব ও হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে আবারও তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে একের পর এক সামরিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ হুতি গোষ্ঠী একটি সংকেতবাহী বার্তার মাধ্যমে সৌদি আরবের ইয়ানবু ও জিজান শহর লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালানোর দাবি করেছে। হুতিদের ভাষ্যমতে, তারা এই দুই শহরের একাধিক তেল স্থাপনায় ১২টির বেশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইয়েমেন-নির্মিত ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটি সামরিক অভিযানটিকে পুরোপুরি সফল দাবি করে জানিয়েছে যে তাদের নির্ধারিত সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, হুতিদের দিক থেকে আসা সব হামলা আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।

সৌদি আরব কর্তৃক ইয়েমেনের হোদাইদাহ প্রদেশ এবং লোহিত সাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কামারান দ্বীপে হামলার একদিন পরই হুতিদের এই পাল্টা জবাব এল। সৌদি আরব দাবি করছে, তারা কামারান দ্বীপে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বাব আল-মানদেবে চলাচলকারী জাহাজে একের পর এক হামলার প্রেক্ষাপটে দ্বীপটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এই উত্তেজনা বৃদ্ধির সময়ে ইয়েমেনে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত এবং ওমানের কর্মকর্তারা উভয় পক্ষকে অবিলম্বে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি বৈঠকের লক্ষ্যে জাতিসংঘ, সৌদি আরব এবং আনসারুল্লাহ হুতিদের বেশ কয়েকজন শীর্ষ প্রতিনিধি বর্তমানে ওমানে অবস্থান করছেন। তবে কূটনীতিকদের মতে, বৈঠক শুরু হওয়ার আগে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিশেষ করে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ হোদাইদাহ বন্দরের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা।

হুতিদের বার্তা স্পষ্ট—সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করে, তবে তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও নৌ-অবরোধ জারি রাখবে। সেক্ষেত্রে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর তেল স্থাপনাগুলোই তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু হবে।