ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। একই সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই দিনে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলে জাহাজের নাবিকেরা সেটি ত্যাগ করে লাইফবোটে আশ্রয় নেন। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান জানিয়েছে, তারা হামলা প্রতিহত করতে নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, আহত সেনাদের অধিকাংশই সামান্য মাত্রার কনকাশনে (মাথায় আঘাতজনিত সমস্যা) আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালনে ফিরে গেছেন। ইরানি হামলায় সেনা হতাহতের তথ্য গোপন করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, পেন্টাগন কোনো তথ্য আড়াল করেনি। এর আগে গত এক সপ্তাহে জর্ডান ও ইরাকে দায়িত্ব পালনকালে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হন।
টানা ১০ রাত ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব কমেনি। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। এর মধ্যে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
হুথিদের একজন কর্মকর্তা জানান, ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবরোধের প্রতিবাদে লোহিতসাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব প্রণালি সৌদি জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে। যদিও এই অবরোধ কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। অতীতে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হুথিরা বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যাহত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে সৌদি আরবের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই জলপথে নৌ চলাচল অব্যাহত রাখবে।
এদিকে, সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তান সফর করেছেন। তবে গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতা ভেঙে পড়ায় নতুন কোনো সমাধানের আশা ক্ষীণ হয়ে এসেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























