ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহানবী (সা.)-এর রাজনৈতিক শিক্ষা: ইনসাফভিত্তিক শাসন, চুক্তি ও পরামর্শের দৃষ্টান্ত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০১:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

ইসলামের শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সমগ্র জীবন উম্মতের জন্য আদর্শ—ঘরসংসার থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিক্ষা রেখে গেছেন তিনি। মদিনায় হিজরতের পর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়; মাক্কি জীবনের মনগঠন ও প্রস্তুতিকে তিনি মাদানিতে বাস্তবায়ন করেন। কোরআনের ভাষ্যে রাসুলকে সত্যদ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে, যাতে তা অন্যান্য ধর্মব্যবস্থার ওপর বিজয়ী হয়—এই ঘোষণা তাঁর রাজনৈতিক মিশনের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করে।

নবীজির রাজনীতির বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ছিল অতুলনীয় নৈতিক শক্তি, নিষ্কলুষ উদ্দেশ্য ও কলুষমুক্ত পদ্ধতি। ব্যক্তিস্বার্থ নয়, ছিল কেবল ইসলামের অনুশীলন ও মানবকল্যাণের লক্ষ্য। শত্রুর প্রতিও দয়া ও ন্যায় দেখিয়ে তিনি অপরাধ ক্ষমার বহু নজির স্থাপন করেন, যা বস্তুলোভী রাজনীতির বিপরীত এক মানদণ্ড তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল আল্লাহর সার্বভৌমত্ব—হুকুম কেবল আল্লাহর—এ বিশ্বাসে তিনি স্বৈরতন্ত্র নয়, ইনসাফ ও সমতার শাসন কায়েম করেন। আইন প্রয়োগে তিনি কাউকে ছাড় দেননি; ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আপনজনও ব্যতিক্রম ছিলেন না। পাশাপাশি মদিনা সনদের মাধ্যমে বহুধর্মীয়, চুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থার উদ্ভব ঘটান, যেখানে ইহুদি-অমুসলিমসহ সবার অধিকার সংরক্ষিত ছিল।

পরামর্শ ছিল তাঁর শাসনের অন্যতম স্তম্ভ—সাহাবিদের শূরা নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিতেন এবং ফলাফলের ওপর আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করেন—বাইজেন্টাইন, পারস্য, ইথিওপিয়া ও মিসরের শাসকদের কাছে সহজ ভাষায় ইসলামের দাওয়াত পাঠিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি করেন।

যুদ্ধনীতি ছিল সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক—শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আত্মরক্ষার জন্য সীমিত যুদ্ধ, যেখানে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও বেসামরিকদের হত্যা নিষিদ্ধ; বৃক্ষনিধন ও অবৈধ ধ্বংসও বারণ। দুর্বল, এতিম-বিধবা ও অসহায়দের অধিকার রক্ষাকে তিনি রাষ্ট্রনীতির অংশ করেছেন, যা ইসলামী রাজনীতিকে সামাজিক ন্যায়ের পরিপূর্ণ ফ্রেমওয়ার্ক দিয়েছে।

সারকথা, মহানবী (সা.)-এর রাজনৈতিক শিক্ষা একদিকে আল্লাহর সার্বভৌমত্বে অবিচল, অন্যদিকে ন্যায়, পরামর্শ, চুক্তি, কূটনীতি ও মানবকল্যাণের সমন্বিত পথনির্দেশ—যা আজও ন্যায্য শাসনের মানদণ্ড হিসেবে প্রাসঙ্গিক।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

মহানবী (সা.)-এর রাজনৈতিক শিক্ষা: ইনসাফভিত্তিক শাসন, চুক্তি ও পরামর্শের দৃষ্টান্ত

আপডেট সময় : ১১:০১:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

ইসলামের শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সমগ্র জীবন উম্মতের জন্য আদর্শ—ঘরসংসার থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিক্ষা রেখে গেছেন তিনি। মদিনায় হিজরতের পর তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়; মাক্কি জীবনের মনগঠন ও প্রস্তুতিকে তিনি মাদানিতে বাস্তবায়ন করেন। কোরআনের ভাষ্যে রাসুলকে সত্যদ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে, যাতে তা অন্যান্য ধর্মব্যবস্থার ওপর বিজয়ী হয়—এই ঘোষণা তাঁর রাজনৈতিক মিশনের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করে।

নবীজির রাজনীতির বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ছিল অতুলনীয় নৈতিক শক্তি, নিষ্কলুষ উদ্দেশ্য ও কলুষমুক্ত পদ্ধতি। ব্যক্তিস্বার্থ নয়, ছিল কেবল ইসলামের অনুশীলন ও মানবকল্যাণের লক্ষ্য। শত্রুর প্রতিও দয়া ও ন্যায় দেখিয়ে তিনি অপরাধ ক্ষমার বহু নজির স্থাপন করেন, যা বস্তুলোভী রাজনীতির বিপরীত এক মানদণ্ড তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল আল্লাহর সার্বভৌমত্ব—হুকুম কেবল আল্লাহর—এ বিশ্বাসে তিনি স্বৈরতন্ত্র নয়, ইনসাফ ও সমতার শাসন কায়েম করেন। আইন প্রয়োগে তিনি কাউকে ছাড় দেননি; ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আপনজনও ব্যতিক্রম ছিলেন না। পাশাপাশি মদিনা সনদের মাধ্যমে বহুধর্মীয়, চুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রব্যবস্থার উদ্ভব ঘটান, যেখানে ইহুদি-অমুসলিমসহ সবার অধিকার সংরক্ষিত ছিল।

পরামর্শ ছিল তাঁর শাসনের অন্যতম স্তম্ভ—সাহাবিদের শূরা নিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিতেন এবং ফলাফলের ওপর আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন করেন—বাইজেন্টাইন, পারস্য, ইথিওপিয়া ও মিসরের শাসকদের কাছে সহজ ভাষায় ইসলামের দাওয়াত পাঠিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি করেন।

যুদ্ধনীতি ছিল সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক—শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আত্মরক্ষার জন্য সীমিত যুদ্ধ, যেখানে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও বেসামরিকদের হত্যা নিষিদ্ধ; বৃক্ষনিধন ও অবৈধ ধ্বংসও বারণ। দুর্বল, এতিম-বিধবা ও অসহায়দের অধিকার রক্ষাকে তিনি রাষ্ট্রনীতির অংশ করেছেন, যা ইসলামী রাজনীতিকে সামাজিক ন্যায়ের পরিপূর্ণ ফ্রেমওয়ার্ক দিয়েছে।

সারকথা, মহানবী (সা.)-এর রাজনৈতিক শিক্ষা একদিকে আল্লাহর সার্বভৌমত্বে অবিচল, অন্যদিকে ন্যায়, পরামর্শ, চুক্তি, কূটনীতি ও মানবকল্যাণের সমন্বিত পথনির্দেশ—যা আজও ন্যায্য শাসনের মানদণ্ড হিসেবে প্রাসঙ্গিক।