ইসলামের ইতিহাসে কারবালার প্রান্তরে সংঘটিত বিয়োগান্তক ঘটনা কেবল একটি যুদ্ধ নয়, বরং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন সংগ্রামের এক চিরন্তন প্রতীক। মহররম মাস এলেই মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে সেই শোকাতুর স্মৃতি জাগ্রত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় নাতি হজরত হোসাইন (রা.)-এর শাহাদতের এই ঘটনাপ্রবাহ হঠাৎ করে শুরু হয়নি, বরং এর পেছনে ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
৪১ হিজরিতে হজরত হাসান (রা.) ও আমির মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে খুলাফায়ে রাশেদার যুগের অবসান ঘটে। এরপর হজরত হাসান (রা.) মদিনায় ইবাদত ও নিভৃত জীবনযাপন শুরু করেন। কিন্তু রাজনৈতিক জটিলতার ধারাবাহিকতায় ৪৯ হিজরিতে তাকে বিষপ্রয়োগ করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায়ও তিনি কোনো ধরনের রক্তপাত চাননি বলে আক্রমণকারীর নাম প্রকাশ করেননি।
হজরত হাসান (রা.)-এর ইন্তেকালের পর তাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পাশে দাফন করার ইচ্ছা থাকলেও তৎকালীন রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ফেতনা এড়াতে তাকে ‘জান্নাতুল বাকি’তে দাফন করা হয়। তার এই বিদায় মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে কারবালার সেই হৃদয়বিদারক পরিণতির দিকে ধাবিত হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























