আব্বাসী শাসনামল (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) ছিল মুসলিম সভ্যতার জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক সোনালী অধ্যায়। এ সময় বাগদাদ কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রই ছিল না, বরং এটি বিশ্বজুড়ে জ্ঞানচর্চার শ্রেষ্ঠ পাদপীঠে পরিণত হয়েছিল। গ্রিক, পারস্য ও ভারতীয় দর্শন ও বিজ্ঞানের মেলবন্ধনে সেখানে এক অনন্য বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব ঘটেছিল, যা ইতিহাসে ‘বাগদাদের স্বর্ণযুগ’ নামে পরিচিত।
তৎকালীন আব্বাসী খলিফাদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা এই জ্ঞানবিপ্লবকে ত্বরান্বিত করেছিল। বিশেষ করে খলিফা হারুনুর রশিদ ও খলিফা আলমামুনের সময় জ্ঞানচর্চাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কথিত আছে, খলিফা আলমামুন অনুবাদকদের তাদের অনূদিত গ্রন্থের ওজনের সমপরিমাণ স্বর্ণ উপহার দিতেন। এই উদারতা ও জ্ঞানানুরাগের ফলে বাগদাদে গড়ে ওঠে অসংখ্য গবেষণাকেন্দ্র, মানমন্দির ও গ্রন্থাগার।
এই বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের মূল কেন্দ্র ছিল ‘বায়তুল হিকমাহ’ বা ‘জ্ঞানের ঘর’। এটি কেবল একটি সাধারণ গ্রন্থাগার ছিল না, বরং এটি ছিল অনুবাদ ও বৈজ্ঞানিক আলোচনার এক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। এখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত পাণ্ডুলিপি অনুবাদ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে জ্ঞানকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হতো। মুসলিম পণ্ডিতরা প্রাচীন জ্ঞান সংরক্ষণের পাশাপাশি গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও দর্শনের মতো মৌলিক ক্ষেত্রে নতুন তত্ত্ব প্রদানের মাধ্যমে মানবসভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 

























