ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

গাজা যুদ্ধের প্রভাবে ইসরায়েলে মাদকাসক্তি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি

গাজায় ইসরায়েলের চলমান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার কারণে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে মাদক ব্যবহারের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি চারজন ইসরায়েলির মধ্যে একজন ক্ষতিকারক মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করছেন।

ইসরায়েল সেন্টার ফর অ্যাডিকশন অ্যান্ড মেন্টাল হেলথের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলে মাদকের অপব্যবহার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা মহামারির আগে যেখানে প্রতি ১০ জনে একজন মাদক ব্যবহার করতেন, মহামারির সময়ে তা বেড়ে প্রতি সাতজনে একজন হয়। কিন্তু গত অক্টোবরের পর এই হার প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতিকে এক গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ দিয়েছে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, ইসরায়েলিদের মধ্যে ঘুমের ওষুধের ব্যবহার আড়াই গুণ বেড়েছে। অন্যদিকে আফিমজাতীয় ও উদ্দীপক (স্টিমুল্যান্ট) ওষুধের ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অ্যালকোহল ও গাঁজার ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে (পিটিএসডি) ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকের অপব্যবহারের হার এখন ৫৪.২ শতাংশ।

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক শাউলি লেভ-রান সতর্ক করে বলেন, বারবার তৈরি হওয়া সংকটের কারণে চরম মানসিক চাপের সময়ে গড়ে ওঠা অভ্যাসগুলো মানুষের মধ্যে স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মানসিক চাপ যত বাড়ে, মানুষ তত বেশি মাদক ব্যবহার করে এবং তাৎক্ষণিক চাপ কমে যাওয়ার পরও এই ব্যবহার চালিয়ে যায়। মাদক ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, রকেট হামলার সাইরেন, জানাজা, সামরিক সংহতি এবং প্রতিদিনের মৃত্যুর খবর সহ্য করতে তারা নিয়মিত কেটামিন, কোকেন, অ্যামফিটামিন, গাঁজা এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করছেন। অনেকে বোমা শেল্টারে প্রবেশের আগে কেটামিন গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ রাতে ঘুম না হওয়া এবং উদ্বেগের মধ্যেও কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে উদ্দীপক মাদক ব্যবহার করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পোশাকনির্ভর রপ্তানিতে ধাক্কা: যুক্তরাজ্যের বাজারে ধীরগতি

গাজা যুদ্ধের প্রভাবে ইসরায়েলে মাদকাসক্তি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি

আপডেট সময় : ০১:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

গাজায় ইসরায়েলের চলমান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনার কারণে দেশটির নাগরিকদের মধ্যে মাদক ব্যবহারের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি চারজন ইসরায়েলির মধ্যে একজন ক্ষতিকারক মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করছেন।

ইসরায়েল সেন্টার ফর অ্যাডিকশন অ্যান্ড মেন্টাল হেলথের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলে মাদকের অপব্যবহার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা মহামারির আগে যেখানে প্রতি ১০ জনে একজন মাদক ব্যবহার করতেন, মহামারির সময়ে তা বেড়ে প্রতি সাতজনে একজন হয়। কিন্তু গত অক্টোবরের পর এই হার প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতিকে এক গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ দিয়েছে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, ইসরায়েলিদের মধ্যে ঘুমের ওষুধের ব্যবহার আড়াই গুণ বেড়েছে। অন্যদিকে আফিমজাতীয় ও উদ্দীপক (স্টিমুল্যান্ট) ওষুধের ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অ্যালকোহল ও গাঁজার ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে (পিটিএসডি) ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকের অপব্যবহারের হার এখন ৫৪.২ শতাংশ।

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক শাউলি লেভ-রান সতর্ক করে বলেন, বারবার তৈরি হওয়া সংকটের কারণে চরম মানসিক চাপের সময়ে গড়ে ওঠা অভ্যাসগুলো মানুষের মধ্যে স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মানসিক চাপ যত বাড়ে, মানুষ তত বেশি মাদক ব্যবহার করে এবং তাৎক্ষণিক চাপ কমে যাওয়ার পরও এই ব্যবহার চালিয়ে যায়। মাদক ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, রকেট হামলার সাইরেন, জানাজা, সামরিক সংহতি এবং প্রতিদিনের মৃত্যুর খবর সহ্য করতে তারা নিয়মিত কেটামিন, কোকেন, অ্যামফিটামিন, গাঁজা এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঘুমের ওষুধ ব্যবহার করছেন। অনেকে বোমা শেল্টারে প্রবেশের আগে কেটামিন গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ রাতে ঘুম না হওয়া এবং উদ্বেগের মধ্যেও কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে উদ্দীপক মাদক ব্যবহার করছেন।