ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সাহাবিদের সম্মান: ইসলামের ইতিহাসে তাদের অবিস্মরণীয় অবদান

সাহাবি, অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহচর্যে যারা ছিলেন, তারা ইসলামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তারা ছিলেন তাকওয়া, ঈমান এবং ইসলামের আদর্শের প্রতীক। রাসুল (সা.)-এর পর তারাই ইসলামের পতাকা বহন করে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের মাধ্যমেই ইসলাম আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে, তাই আমরা তাদের কাছে চির ঋণী। তারা শুধু শ্রেষ্ঠ প্রজন্মই ছিলেন না, বরং আল্লাহ তায়ালা নিজেই তাদের নবীজির সহচর হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার যুগের লোকরাই সর্বোত্তম ব্যক্তি, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। এরপর এমন সব ব্যক্তি আসবে, যারা কসম করার আগেই সাক্ষ্য দেবে, আবার সাক্ষ্য দেওয়ার আগে কসম করে বসবে।’ (বুখারি : ২৬৫২)।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর এই উক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অনুসরণ করতে চায়, তবে সে যেন মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণ করে। কারণ, তারাই ছিলেন এ উম্মতের মধ্যে আত্মার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নেককার, ইলমের দিক থেকে গভীরতর, লৌকিকতার দিক থেকে স্বল্পতম, আদর্শের দিক থেকে সঠিকতম, অবস্থার দিক থেকে শুদ্ধতম। তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের আল্লাহ নিজের নবী (সা.)-এর সংস্পর্শে আসার জন্য এবং তাঁর দ্বীন কায়েমের উদ্দেশ্যে বাছাই করে নিয়েছেন। অতএব, তোমরা তাদের মর্যাদা অনুধাবন করো এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো। কারণ, তারা ছিলেন সিরাতে মুস্তাকিমের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’ (মিশকাত : ১৯৩)। এই উক্তি থেকে স্পষ্ট হয় যে, নবীজি (সা.)-এর পর পৃথিবীতে অনুসরণযোগ্য আদর্শ হলেন সাহাবায়ে কিরাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্টির ঘোষণা করেছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন।

সমগ্র পৃথিবীর সকল মানুষের নেক আমল একত্রিত করলেও সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর এক মুহূর্তের আমলের সমান হবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবিদের গালমন্দ করো না। কেননা তাদের এক মুহূর্ত আমলের মর্যাদা তোমাদের সারাজীবনের আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ (ইবনে মাজাহ : ১৬২)। এই কথাগুলো সাহাবিদের মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্বকেই তুলে ধরে।

আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার সাহাবাদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো। আমার পরে তোমরা তাদের সমালোচনার নিশানায় পরিণত করো না। কারণ, যে তাদের ভালোবাসবে, সে আমার মুহাব্বতেই তাদের ভালোবাসবে। আর যে তাদের অপছন্দ করবে, সে আমাকে অপছন্দ করার ফলেই তাদের অপছন্দ করবে।’ (বাক্যটি অসম্পূর্ণ)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, সাহাবিদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন আসলে রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসারই অংশ। তাই তাদের সমালোচনা করা বা অসম্মান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অচল দেশ, বিচ্ছিন্ন রাজধানী; আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা আদেশ

সাহাবিদের সম্মান: ইসলামের ইতিহাসে তাদের অবিস্মরণীয় অবদান

আপডেট সময় : ১২:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সাহাবি, অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাহচর্যে যারা ছিলেন, তারা ইসলামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তারা ছিলেন তাকওয়া, ঈমান এবং ইসলামের আদর্শের প্রতীক। রাসুল (সা.)-এর পর তারাই ইসলামের পতাকা বহন করে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের মাধ্যমেই ইসলাম আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে, তাই আমরা তাদের কাছে চির ঋণী। তারা শুধু শ্রেষ্ঠ প্রজন্মই ছিলেন না, বরং আল্লাহ তায়ালা নিজেই তাদের নবীজির সহচর হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার যুগের লোকরাই সর্বোত্তম ব্যক্তি, অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। অতঃপর যারা তাদের নিকটবর্তী। এরপর এমন সব ব্যক্তি আসবে, যারা কসম করার আগেই সাক্ষ্য দেবে, আবার সাক্ষ্য দেওয়ার আগে কসম করে বসবে।’ (বুখারি : ২৬৫২)।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর এই উক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অনুসরণ করতে চায়, তবে সে যেন মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবায়ে কিরামের অনুসরণ করে। কারণ, তারাই ছিলেন এ উম্মতের মধ্যে আত্মার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি নেককার, ইলমের দিক থেকে গভীরতর, লৌকিকতার দিক থেকে স্বল্পতম, আদর্শের দিক থেকে সঠিকতম, অবস্থার দিক থেকে শুদ্ধতম। তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের আল্লাহ নিজের নবী (সা.)-এর সংস্পর্শে আসার জন্য এবং তাঁর দ্বীন কায়েমের উদ্দেশ্যে বাছাই করে নিয়েছেন। অতএব, তোমরা তাদের মর্যাদা অনুধাবন করো এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো। কারণ, তারা ছিলেন সিরাতে মুস্তাকিমের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’ (মিশকাত : ১৯৩)। এই উক্তি থেকে স্পষ্ট হয় যে, নবীজি (সা.)-এর পর পৃথিবীতে অনুসরণযোগ্য আদর্শ হলেন সাহাবায়ে কিরাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্টির ঘোষণা করেছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন।

সমগ্র পৃথিবীর সকল মানুষের নেক আমল একত্রিত করলেও সাহাবায়ে কিরাম (রা.)-এর এক মুহূর্তের আমলের সমান হবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘তোমরা মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবিদের গালমন্দ করো না। কেননা তাদের এক মুহূর্ত আমলের মর্যাদা তোমাদের সারাজীবনের আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’ (ইবনে মাজাহ : ১৬২)। এই কথাগুলো সাহাবিদের মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্বকেই তুলে ধরে।

আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমার সাহাবাদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো। আমার পরে তোমরা তাদের সমালোচনার নিশানায় পরিণত করো না। কারণ, যে তাদের ভালোবাসবে, সে আমার মুহাব্বতেই তাদের ভালোবাসবে। আর যে তাদের অপছন্দ করবে, সে আমাকে অপছন্দ করার ফলেই তাদের অপছন্দ করবে।’ (বাক্যটি অসম্পূর্ণ)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, সাহাবিদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন আসলে রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসারই অংশ। তাই তাদের সমালোচনা করা বা অসম্মান করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।