ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

নির্বিচার পাহাড় কাটা ও অপরিকল্পিত নগরায়ন: চট্টগ্রামের দুর্যোগের মূল কারণ

গত ৭ জুলাই এক রাতের ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড এই নগরীকে কার্যত অচল করে দেয়। শহরজুড়ে কোমরসমান পানি, দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে জলাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হয়।

তবে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য এ দৃশ্য নতুন নয়, প্রতি বছর বর্ষায় একই চিত্র দেখা যায়। আবহাওয়াবিদরা রেকর্ড বৃষ্টিপাতকে দায়ী করলেও নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশবিদদের মতে, এই জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগ কেবল বৃষ্টির পানি নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে নির্বিচারে পাহাড় কাটা, জলাধার ধ্বংস এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন। তাদের মতে, এই সমস্যার প্রায় পুরোটাই মানবসৃষ্ট।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩২.৩৭ বর্গকিলোমিটার পাহাড়ি ভূমি ছিল, যা ২০০৮ সালে কমে দাঁড়ায় ১৪.০২ বর্গকিলোমিটারে। অর্থাৎ, মাত্র ৩২ বছরে প্রায় ৫৭ শতাংশ পাহাড়ি ভূমি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পরিবেশবিদদের ধারণা, বর্তমানে এই পরিমাণ মোট পাহাড়ি ভূমির মাত্র ৭ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে। বিশেষ করে পাঁচলাইশ এলাকায় প্রায় ৭৪ শতাংশ পাহাড় কাটা হয়েছে।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ২০০০ সালে পাহাড় কাটার পরিমাণ ছিল ৬৭৯ হেক্টর, যা ২০১২ সালে বেড়ে ১ হাজার ২৯৫ হেক্টরে দাঁড়ায়। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, বর্তমানে এই পরিমাণ দুই হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে গেছে। চার দশক আগে চট্টগ্রামে যেখানে ২০০টির বেশি পাহাড় ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশের নিচে নেমে এসেছে এবং ১২০টির বেশি পাহাড় সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় প্রেসক্লাব সম্পাদক: সাংবাদিকতাকে দলীয়করণ নয়, সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরুন

নির্বিচার পাহাড় কাটা ও অপরিকল্পিত নগরায়ন: চট্টগ্রামের দুর্যোগের মূল কারণ

আপডেট সময় : ১২:১৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

গত ৭ জুলাই এক রাতের ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড এই নগরীকে কার্যত অচল করে দেয়। শহরজুড়ে কোমরসমান পানি, দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে জলাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হয়।

তবে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য এ দৃশ্য নতুন নয়, প্রতি বছর বর্ষায় একই চিত্র দেখা যায়। আবহাওয়াবিদরা রেকর্ড বৃষ্টিপাতকে দায়ী করলেও নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশবিদদের মতে, এই জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগ কেবল বৃষ্টির পানি নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে নির্বিচারে পাহাড় কাটা, জলাধার ধ্বংস এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন। তাদের মতে, এই সমস্যার প্রায় পুরোটাই মানবসৃষ্ট।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৭৬ সালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩২.৩৭ বর্গকিলোমিটার পাহাড়ি ভূমি ছিল, যা ২০০৮ সালে কমে দাঁড়ায় ১৪.০২ বর্গকিলোমিটারে। অর্থাৎ, মাত্র ৩২ বছরে প্রায় ৫৭ শতাংশ পাহাড়ি ভূমি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। পরিবেশবিদদের ধারণা, বর্তমানে এই পরিমাণ মোট পাহাড়ি ভূমির মাত্র ৭ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে। বিশেষ করে পাঁচলাইশ এলাকায় প্রায় ৭৪ শতাংশ পাহাড় কাটা হয়েছে।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, ২০০০ সালে পাহাড় কাটার পরিমাণ ছিল ৬৭৯ হেক্টর, যা ২০১২ সালে বেড়ে ১ হাজার ২৯৫ হেক্টরে দাঁড়ায়। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, বর্তমানে এই পরিমাণ দুই হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে গেছে। চার দশক আগে চট্টগ্রামে যেখানে ২০০টির বেশি পাহাড় ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশের নিচে নেমে এসেছে এবং ১২০টির বেশি পাহাড় সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।