ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

খিলগাঁওয়ে স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামী আটক, হত্যা না আত্মহত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ানে এক নববিবাহিত তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আট মাস আগে ভালোবেসে বিয়ে করা সানজিদা আক্তার মারিয়া (১৮) নামের ওই তরুণীর লাশ তার ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গলায় কালো দাগ, ঘটনার সময় স্বামীর অনুপস্থিতি এবং পরিবারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর প্রশ্ন। পুলিশ নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শুক্রবার রাতে খিলগাঁও থানার দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত সানজিদা আক্তার মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার হাতকান্দা নয়াপাড়া গ্রামে। পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় আট মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের পর কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পেশায় ফুড ডেলিভারি রাইডার সাইফুলের সঙ্গে বিয়ের পর তারা রাজধানীর দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

নিহতের ভাই চান মিয়া জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বোনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে তারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে সাইফুলকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘বাসায় গিয়ে দেখে আসেন।’ বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দক্ষিণ গোড়ানের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তারা রান্নাঘরসংলগ্ন বারান্দার মেঝেতে মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় বাসায় তার স্বামী ছিলেন না।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, মারিয়ার গলায় স্পষ্ট দাগ দেখা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে খিলগাঁও থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতেই লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, হাসপাতালের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র গলায় দাগের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৮ জেলায় বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরগুলোতে সতর্কবার্তা জারি

খিলগাঁওয়ে স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামী আটক, হত্যা না আত্মহত্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

আপডেট সময় : ১০:৫৮:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ানে এক নববিবাহিত তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আট মাস আগে ভালোবেসে বিয়ে করা সানজিদা আক্তার মারিয়া (১৮) নামের ওই তরুণীর লাশ তার ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গলায় কালো দাগ, ঘটনার সময় স্বামীর অনুপস্থিতি এবং পরিবারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর প্রশ্ন। পুলিশ নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শুক্রবার রাতে খিলগাঁও থানার দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত সানজিদা আক্তার মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার হাতকান্দা নয়াপাড়া গ্রামে। পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় আট মাস আগে প্রেমের সম্পর্কের পর কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পেশায় ফুড ডেলিভারি রাইডার সাইফুলের সঙ্গে বিয়ের পর তারা রাজধানীর দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।

নিহতের ভাই চান মিয়া জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বোনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া না পেয়ে তারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে সাইফুলকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘বাসায় গিয়ে দেখে আসেন।’ বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দক্ষিণ গোড়ানের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তারা রান্নাঘরসংলগ্ন বারান্দার মেঝেতে মারিয়াকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় বাসায় তার স্বামী ছিলেন না।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, মারিয়ার গলায় স্পষ্ট দাগ দেখা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে খিলগাঁও থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাতেই লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, হাসপাতালের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র গলায় দাগের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।