ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফার্মেসি, চারুকলা এবং কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম—এই তিনটি বিভাগ বর্তমানে অন্য বিভাগের শিক্ষকদের দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলায় একাডেমিক কার্যক্রমে জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ সংকট বাড়ছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি না থাকায় তাদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাদের মতে, অন্য বিভাগের শিক্ষকরা বিভাগের সিলেবাস, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রয়োজন এবং মানসিক অবস্থা সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন, যা শিক্ষাকার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে ফার্মেসি বিভাগে সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহা. মিজানুর রহমান। চারুকলা বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান এবং কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো বিভাগে একাধিক শিক্ষক থাকলে সেখানে পদমর্যাদা ও চাকরিকালের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। ন্যূনতম সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদা থাকলেই এই দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা অর্জিত হয়। একই পদে একাধিক শিক্ষক থাকলে চাকরিকালের সময় এবং যোগদানের তারিখ বিবেচনায় জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের নিয়মও রয়েছে।
তবে এই তিন বিভাগে একাধিক সহকারী অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও তাদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রশাসন এসব বিভাগে সভাপতির পদে পরিবর্তন আনে। সে সময় বিভাগগুলোয় সহকারী অধ্যাপক না থাকায় সাময়িকভাবে অন্য বিভাগের শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা প্রভাষকরা পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক না হওয়া পর্যন্ত চালু থাকার কথা ছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চারুকলা বিভাগের শিক্ষক রায়হান উদ্দিন ফকির ও ইমতিয়াজ আহমেদ ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের চাকরির তিন বছর পূর্ণ হলেও পদোন্নতি হয়নি। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের আপগ্রেডিং বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় এবং ৩০ জানুয়ারি সিন্ডিকেট সভায় তা অনুমোদিত হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























