ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সবুজের খোঁজে নগরবাসী: বৃক্ষমেলায় প্রাণের স্পন্দন

রাজধানীর যান্ত্রিক জীবনে ইট-পাথরের ধূসর চার দেয়ালের মাঝে এক চিলতে সবুজের ছোঁয়া যেন পরম স্বস্তি নিয়ে আসে। সেই স্বস্তির খোঁজে শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা এখন নগরবাসীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই মেলায় বিকাল গড়াতেই নেমে আসছে বৃক্ষপ্রেমীদের ঢল। কেউ হাতে পছন্দের চারা নিয়ে ফিরছেন, কেউবা মাথায় করে গাছের ঝুড়ি গাড়িতে তুলছেন, আবার কেউ গভীর মনোযোগে জেনে নিচ্ছেন গাছ ও গাছের যত্ন নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বৈরী আবহাওয়া কিংবা যানজট উপেক্ষা করেই সবুজের টানে ছুটে আসছেন সব বয়সের মানুষ। সরেজমিনে বৃক্ষপ্রেমী মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নগরবাসীর এই ভিড়ের পেছনে কাজ করছে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক তাগিদ। যান্ত্রিক শহরে মানসিক প্রশান্তি এবং পরিবারের জন্য বিষমুক্ত টাটকা খাবারের নিশ্চয়তা পেতে এখন অনেকেই নিজেদের ছোট্ট বারান্দা কিংবা ছাদকে সাজিয়ে তুলছেন অরণ্যের আদলে।

নিকেতন থেকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আসা শামিম হোসেন ৪০০ টাকায় একটি লেবু গাছ কিনেছেন, সঙ্গে নিয়েছেন হাসনাহেনা গাছ। তিনি বলেন, “আমরা যেরকম মাছে ভাতে বাঙালি, তেমনি গাছের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক আছে। বাসায় বা বাসার সামনে গাছ না থাকলে দেখতেও ভালো লাগে না। ঘরের সামনে গাছ না থাকলে প্রাণের স্পন্দন অনুভূত হয় না।”

মিরপুর থেকে আসা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রাফিদ আল জহুরের মতে, এই সবুজায়ন কেবল শৌখিনতা নয়, বরং সন্তানদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে বড় করার একটি প্রয়াস। তিনি মূলত তার ছোট সন্তানের কথা চিন্তা করে এবং পরিবারের জন্য বিষমুক্ত সামান্য কিছু টাটকা খাবার নিশ্চিত করতে বাগান শুরু করেন। তার বারান্দায় রঙ্গন, হাসনাহেনা, মাধবীলতা, পুঁইশাক ও কচু গাছ রয়েছে এবং তিনি টমেটো চাষের চেষ্টা করছেন। তিনি প্রায় ৮-৯ মাস ধরে বাগান করছেন এবং লক্ষ্য করেছেন যে, ঢাকার মানুষের মধ্যে বাগান করার ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তার আশপাশের অনেক ভবনের ছাদে আম, পেয়ারা, লেবু ও মরিচের চমৎকার বাগান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

গৃহসজ্জার পাশাপাশি ঘরের ভেতরে এক চিলতে সবুজ কোণ তৈরিতেও নগরবাসীর ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। নিকেতন থেকে কিশোরী মেয়েকে নিয়ে আসা বৃক্ষপ্রেমী শাম্মী আক্তার তার বারান্দায় ড্রাগন, বাগানবিলাস ও নয়নতারার মতো গাছের কথা উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় প্রেসক্লাব সম্পাদক: সাংবাদিকতাকে দলীয়করণ নয়, সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরুন

সবুজের খোঁজে নগরবাসী: বৃক্ষমেলায় প্রাণের স্পন্দন

আপডেট সময় : ০১:৩১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর যান্ত্রিক জীবনে ইট-পাথরের ধূসর চার দেয়ালের মাঝে এক চিলতে সবুজের ছোঁয়া যেন পরম স্বস্তি নিয়ে আসে। সেই স্বস্তির খোঁজে শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা এখন নগরবাসীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই মেলায় বিকাল গড়াতেই নেমে আসছে বৃক্ষপ্রেমীদের ঢল। কেউ হাতে পছন্দের চারা নিয়ে ফিরছেন, কেউবা মাথায় করে গাছের ঝুড়ি গাড়িতে তুলছেন, আবার কেউ গভীর মনোযোগে জেনে নিচ্ছেন গাছ ও গাছের যত্ন নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বৈরী আবহাওয়া কিংবা যানজট উপেক্ষা করেই সবুজের টানে ছুটে আসছেন সব বয়সের মানুষ। সরেজমিনে বৃক্ষপ্রেমী মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নগরবাসীর এই ভিড়ের পেছনে কাজ করছে এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক তাগিদ। যান্ত্রিক শহরে মানসিক প্রশান্তি এবং পরিবারের জন্য বিষমুক্ত টাটকা খাবারের নিশ্চয়তা পেতে এখন অনেকেই নিজেদের ছোট্ট বারান্দা কিংবা ছাদকে সাজিয়ে তুলছেন অরণ্যের আদলে।

নিকেতন থেকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আসা শামিম হোসেন ৪০০ টাকায় একটি লেবু গাছ কিনেছেন, সঙ্গে নিয়েছেন হাসনাহেনা গাছ। তিনি বলেন, “আমরা যেরকম মাছে ভাতে বাঙালি, তেমনি গাছের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক আছে। বাসায় বা বাসার সামনে গাছ না থাকলে দেখতেও ভালো লাগে না। ঘরের সামনে গাছ না থাকলে প্রাণের স্পন্দন অনুভূত হয় না।”

মিরপুর থেকে আসা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রাফিদ আল জহুরের মতে, এই সবুজায়ন কেবল শৌখিনতা নয়, বরং সন্তানদের প্রকৃতির সান্নিধ্যে বড় করার একটি প্রয়াস। তিনি মূলত তার ছোট সন্তানের কথা চিন্তা করে এবং পরিবারের জন্য বিষমুক্ত সামান্য কিছু টাটকা খাবার নিশ্চিত করতে বাগান শুরু করেন। তার বারান্দায় রঙ্গন, হাসনাহেনা, মাধবীলতা, পুঁইশাক ও কচু গাছ রয়েছে এবং তিনি টমেটো চাষের চেষ্টা করছেন। তিনি প্রায় ৮-৯ মাস ধরে বাগান করছেন এবং লক্ষ্য করেছেন যে, ঢাকার মানুষের মধ্যে বাগান করার ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তার আশপাশের অনেক ভবনের ছাদে আম, পেয়ারা, লেবু ও মরিচের চমৎকার বাগান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

গৃহসজ্জার পাশাপাশি ঘরের ভেতরে এক চিলতে সবুজ কোণ তৈরিতেও নগরবাসীর ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। নিকেতন থেকে কিশোরী মেয়েকে নিয়ে আসা বৃক্ষপ্রেমী শাম্মী আক্তার তার বারান্দায় ড্রাগন, বাগানবিলাস ও নয়নতারার মতো গাছের কথা উল্লেখ করেন।