ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যা, ৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি; সেনাবাহিনী মোতায়েন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। দুটি উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে কিছুটা বিরতি দিয়ে সন্ধ্যার পর থেকে আবারও বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম নগরীসহ জেলার ১৬টি উপজেলায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৩ হাজার ৮৫৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

বন্যার্তদের সহায়তায় সরকার ৭০০ টন চাল এবং ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩০০ টন চাল, ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৮ হাজার ৩৩০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য আরও ৪০০ টন চাল ও ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার বেলা ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে যে, আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে আকস্মিক বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে আশিক (১১) ও মিরাজ (৬) নামে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুর্গম উপকূলীয় অনেক ইউনিয়নে এখনো ত্রাণ পৌঁছায়নি এবং স্বেচ্ছাসেবকেরাও ওই সব এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকা এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় যোগাযোগ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাতকানিয়ার কাছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি অংশ বৃহস্পতিবার থেকে পানির নিচে রয়েছে। যান চলাচল এখনো চালু থাকলেও পানি আরও বাড়লে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ার বাজালিয়া, কেওচিয়া, ছদাহা, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, খাগরিয়া, আমিলাইশ, ঢেমশা, নলুয়া, চরতি ও পুরানগড় ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় প্রেসক্লাব সম্পাদক: সাংবাদিকতাকে দলীয়করণ নয়, সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরুন

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যা, ৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি; সেনাবাহিনী মোতায়েন

আপডেট সময় : ০১:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। দুটি উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে কিছুটা বিরতি দিয়ে সন্ধ্যার পর থেকে আবারও বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম নগরীসহ জেলার ১৬টি উপজেলায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মোট ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৩ হাজার ৮৫৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

বন্যার্তদের সহায়তায় সরকার ৭০০ টন চাল এবং ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩০০ টন চাল, ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৮ হাজার ৩৩০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য আরও ৪০০ টন চাল ও ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা মজুত রয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার বেলা ৩টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে যে, আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নে আকস্মিক বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে আশিক (১১) ও মিরাজ (৬) নামে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুর্গম উপকূলীয় অনেক ইউনিয়নে এখনো ত্রাণ পৌঁছায়নি এবং স্বেচ্ছাসেবকেরাও ওই সব এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকা এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় যোগাযোগ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাতকানিয়ার কাছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি অংশ বৃহস্পতিবার থেকে পানির নিচে রয়েছে। যান চলাচল এখনো চালু থাকলেও পানি আরও বাড়লে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এবং পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ার বাজালিয়া, কেওচিয়া, ছদাহা, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, খাগরিয়া, আমিলাইশ, ঢেমশা, নলুয়া, চরতি ও পুরানগড় ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।