কক্সবাজারে টানা ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী উপজেলাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে তলিয়ে আছে। বাড়িঘরে কোমর সমান পানি ঢুকে যাওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। যদিও শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে এসেছে, তবে এখনো অনেক এলাকা প্লাবিত।
বন্যার পানিতে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় নৌকা ডুবে চকরিয়া হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা ও শাওরিন মনি নামে দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের বাবা-মা ও আরেক সন্তান প্রাণে বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে টানা ছয় দিন ধরে পানির নিচে থাকায় জেলার বন্যাকবলিত এলাকার সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুক্রবার বৃষ্টি কম হওয়ায় পানির উচ্চতা কিছুটা কমলেও কক্সবাজারের দুই প্রধান নদী বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর পানি দ্বিতীয় দিনের মতো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এই দুর্যোগে জেলায় অতিবৃষ্টিপাতে পাহাড়ধস, দেয়ালচাপা ও পানিতে ডুবে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত পাঁচ দিনে শুধু রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে বিশজনের অধিক মানুষ। গত রোববার থেকে অবিরাম বৃষ্টিপাতে জেলার বহু বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গিয়ে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, টানা বৃষ্টিপাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকা। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার ৩৫টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে টইটং, শিলখালী, রাজাখালী, মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম।
রিপোর্টারের নাম 

























