ঢাকা ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

কোটা সংস্কার আন্দোলন: শিক্ষার্থীদের ব্যারিকেড ভাঙা ও সংঘর্ষে বহু আহত

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের ১১ জুলাই শিক্ষার্থীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে রাজধানীর শাহবাগে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন। একই দিনে সারা দেশজুড়ে সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়, যার ফলে কুমিল্লায় সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন এবং ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ১০ শিক্ষার্থী আহত হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ও অভ্যন্তরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একাধিকবার পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যারিকেড, আর্মড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), জলকামান ও সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে। বৃষ্টির পর বিকাল ৫টায় শিক্ষার্থীরা পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ মেট্রোস্টেশনের নিচে অবস্থান নেন, তখন পুলিশকে পিছু হটতে দেখা যায়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘গো ব্যাক, গো ব্যাক’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাধা অতিক্রম করে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ভেঙে মিছিল নিয়ে শাহবাগে পৌঁছান। পথে শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, জিরো পয়েন্ট, মৎস্য ভবন এলাকায় একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব ও নীলক্ষেতে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। এ সময় ছাত্রলীগের একটি মিছিল কাছাকাছি এসে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা করলে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হন।

কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় কাঁদানে গ্যাস, ফাঁকা গুলি ও লাঠিচার্জ করা হয়। এতে পুলিশ, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সিলেটেও লাঠিপেটায় আহত হয় ২০ জন। চট্টগ্রামেও শিক্ষার্থীদের মিছিল ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে গেলে পুলিশ লাঠিপেটা করে, এতে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দুপুরে রেললাইন অবরোধ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। এছাড়া কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ মহাসড়কেও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া অপরিহার্য

কোটা সংস্কার আন্দোলন: শিক্ষার্থীদের ব্যারিকেড ভাঙা ও সংঘর্ষে বহু আহত

আপডেট সময় : ০৯:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের ১১ জুলাই শিক্ষার্থীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে রাজধানীর শাহবাগে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন। একই দিনে সারা দেশজুড়ে সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়, যার ফলে কুমিল্লায় সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন এবং ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ১০ শিক্ষার্থী আহত হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ও অভ্যন্তরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একাধিকবার পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যারিকেড, আর্মড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), জলকামান ও সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে। বৃষ্টির পর বিকাল ৫টায় শিক্ষার্থীরা পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ মেট্রোস্টেশনের নিচে অবস্থান নেন, তখন পুলিশকে পিছু হটতে দেখা যায়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘গো ব্যাক, গো ব্যাক’, ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে না’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাধা অতিক্রম করে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ভেঙে মিছিল নিয়ে শাহবাগে পৌঁছান। পথে শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, জিরো পয়েন্ট, মৎস্য ভবন এলাকায় একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব ও নীলক্ষেতে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। এ সময় ছাত্রলীগের একটি মিছিল কাছাকাছি এসে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়। আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা করলে অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হন।

কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় কাঁদানে গ্যাস, ফাঁকা গুলি ও লাঠিচার্জ করা হয়। এতে পুলিশ, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সিলেটেও লাঠিপেটায় আহত হয় ২০ জন। চট্টগ্রামেও শিক্ষার্থীদের মিছিল ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে গেলে পুলিশ লাঠিপেটা করে, এতে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দুপুরে রেললাইন অবরোধ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। এছাড়া কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ মহাসড়কেও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।