ঢাকা ০২:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি: আ.লীগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক নিরীহ পরিবারের নারী ও শিশুসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পেটানো এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিভাষ সরকার নুপুরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। বর্তমানে তারা আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সকালে মির্জাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার এসব অভিযোগ তুলে ধরে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাসন্তী রানী সরকার, তার স্বামী রাম গোপাল সাহা, চাচাতো ভাই খুশিমোহন মন্ডল ও ধীরেন মন্ডল এবং আহত শিশু পায়েল সাহা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকারসহ কয়েকজন নিজেদের জমিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন, যেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতা করতেন। ২০১২ সালে তিনি তার জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যুর পর বিদ্যালয়টিতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়, যা বর্তমানে কেবল ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী জমিগুলো তার দুই মেয়ে রত্মা সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে হস্তান্তর করেন।

বাসন্তী রানীর অভিযোগ, তার চাচাতো চাচা উপেন্দ্র সরকার তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন এবং এ জন্য তাকে কিছু জমিও দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান নুপুর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জায়গা নিজের দাবি করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন, যার ফলে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর চেয়ারম্যান নুপুর জোর করে সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা এবং ছোট মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।

বাসন্তী রানী বলেন, “চেয়ারম্যান সাহেব রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মেরেছেন। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মারধরের পর আমরা এলাকা ছেড়ে আত্মীয়বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। চেয়ারম্যান এখন আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় প্রেসক্লাব সম্পাদক: সাংবাদিকতাকে দলীয়করণ নয়, সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরুন

জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকি: আ.লীগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০১:৩১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক নিরীহ পরিবারের নারী ও শিশুসহ কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পেটানো এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বিভাষ সরকার নুপুরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। বর্তমানে তারা আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সকালে মির্জাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার এসব অভিযোগ তুলে ধরে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাসন্তী রানী সরকার, তার স্বামী রাম গোপাল সাহা, চাচাতো ভাই খুশিমোহন মন্ডল ও ধীরেন মন্ডল এবং আহত শিশু পায়েল সাহা।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকারসহ কয়েকজন নিজেদের জমিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন, যেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতা করতেন। ২০১২ সালে তিনি তার জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন। আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যুর পর বিদ্যালয়টিতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়, যা বর্তমানে কেবল ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী জমিগুলো তার দুই মেয়ে রত্মা সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে হস্তান্তর করেন।

বাসন্তী রানীর অভিযোগ, তার চাচাতো চাচা উপেন্দ্র সরকার তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন এবং এ জন্য তাকে কিছু জমিও দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি ঘর নির্মাণ করেন। সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান নুপুর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জায়গা নিজের দাবি করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন, যার ফলে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর চেয়ারম্যান নুপুর জোর করে সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে বাধা দিলে তাকে, তার স্বামী রামগোপাল সাহা এবং ছোট মেয়ে পায়েল সাহাকে মারধর করা হয়।

বাসন্তী রানী বলেন, “চেয়ারম্যান সাহেব রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মেরেছেন। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মারধরের পর আমরা এলাকা ছেড়ে আত্মীয়বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। চেয়ারম্যান এখন আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”