ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

প্রকোপে বিপর্যস্ত দেশ: অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক বন্যা, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

চলমান বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি এবং ভারতীয় সীমান্ত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বৃহত্তর চট্টগ্রামে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, যেখানে বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুই উপজেলায় ঢলের পানিতে ভেসে অন্তত তিনজন মারা গেছেন এবং দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দেশের অন্যান্য জেলাতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, যা জনজীবনে চরম ভোগান্তি নিয়ে এসেছে।

হবিগঞ্জের খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মৌলভীবাজারেও পাঁচটি স্থানে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। রাঙামাটিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন এবং প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। কক্সবাজারের অনেক এলাকাও পানির নিচে চলে গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে একটি নৌকা উল্টে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও, দ্বিতীয় দিনের মতো বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর পানি।

বান্দরবানে চারদিন ধরে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার কারণে জনজীবন এখনো স্বাভাবিক হয়নি। জেলা সদরের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে, সেনাবাহিনীর তৎপরতায় রাঙামাটির সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

চট্টগ্রামের ১০টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা জলমগ্ন। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, লোহাগাড়া, হাটহাজারী, পটিয়া, আনোয়ারা এবং সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকাও বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকার সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হাজার হাজার একর ফসলি জমি, মাছের ঘের, বসতবাড়ি ও দোকানপাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে ভেসে এবং পাহাড়ধসে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ছয়জন শিশু। সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ আটকা পড়েছেন। রাস্তার পাশের মানুষজন ত্রাণ পেলেও দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষেরা, বিশেষ করে শিশু, নারী ও গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুলিয়ারচরে দুর্বৃত্তের হামলায় এক যুবক নিহত, এলাকায় উত্তেজনা

প্রকোপে বিপর্যস্ত দেশ: অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক বন্যা, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

আপডেট সময় : ১১:০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

চলমান বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি এবং ভারতীয় সীমান্ত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বৃহত্তর চট্টগ্রামে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে, যেখানে বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুই উপজেলায় ঢলের পানিতে ভেসে অন্তত তিনজন মারা গেছেন এবং দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দেশের অন্যান্য জেলাতেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, যা জনজীবনে চরম ভোগান্তি নিয়ে এসেছে।

হবিগঞ্জের খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মৌলভীবাজারেও পাঁচটি স্থানে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। রাঙামাটিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন এবং প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। কক্সবাজারের অনেক এলাকাও পানির নিচে চলে গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে একটি নৌকা উল্টে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও, দ্বিতীয় দিনের মতো বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বাঁকখালী ও মাতামুহুরীর পানি।

বান্দরবানে চারদিন ধরে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার কারণে জনজীবন এখনো স্বাভাবিক হয়নি। জেলা সদরের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে, সেনাবাহিনীর তৎপরতায় রাঙামাটির সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

চট্টগ্রামের ১০টি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা জলমগ্ন। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, লোহাগাড়া, হাটহাজারী, পটিয়া, আনোয়ারা এবং সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকাও বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকার সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। হাজার হাজার একর ফসলি জমি, মাছের ঘের, বসতবাড়ি ও দোকানপাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে ভেসে এবং পাহাড়ধসে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ছয়জন শিশু। সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ আটকা পড়েছেন। রাস্তার পাশের মানুষজন ত্রাণ পেলেও দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষেরা, বিশেষ করে শিশু, নারী ও গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।