ঢাকা ১২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বন্ধু: বেলিংহ্যাম ও হালান্ডের ভিন্ন পথে যাত্রা

ফুটবল শুধু গোল আর জয়ের খেলা নয়, এটি কখনো অসমাপ্ত কথোপকথন, কখনো পুরনো স্মৃতির হাতছানি, আবার কখনো দুই বন্ধুর ভিন্ন পথে হাঁটার এক মর্মস্পর্শী আখ্যান। এবারের বিশ্বকাপেও আমরা দেখতে পাব এমন এক বন্ধুত্বের গল্প, যেখানে জার্মানির ডর্টমুন্ডে একই ড্রেসিংরুমে স্বপ্ন দেখা দুই সতীর্থ আজ একে অপরের প্রতিপক্ষ। তারা হলেন ইংল্যান্ডের প্রাণভোমরা জুড বেলিংহ্যাম এবং নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। একজন লড়ছেন বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন নিয়ে, অন্যজন বুটজোড়া দিয়ে লিখতে চান নতুন ইতিহাস।

তাদের বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল ডর্টমুন্ডে। ২০২০ সালের শুরুতে সেখানে যোগ দেন হালান্ড, আর কয়েক মাস পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে পা রাখেন জুড বেলিংহ্যাম। যদিও বয়সে তরুণ, তার খেলা দেখে প্রথম দিন থেকেই বোঝা গিয়েছিল যে তিনি সাধারণ কেউ নন। ডর্টমুন্ড ক্লাবও তার সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরেছিল। এমনকি তাকে বিমানবন্দরে নিয়ে আসার জন্য তিনটি গাড়ি পাঠানো হয়েছিল; একটিতে বেলিংহ্যাম, বাকি দুটি সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার জন্য। ক্লাব তখন বুঝতে পেরেছিল, তারা শুধু একজন ফুটবলার নয়, বরং ভবিষ্যতের এক মহাতারকাকে বরণ করে নিচ্ছে। অভিষেক ম্যাচেই গোল করে বেলিংহ্যাম সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে থরগান হাজার্ডের মন্তব্যটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ: ‘ওর বয়স মাত্র ১৭, কিন্তু খেলা দেখে মনে হয় বহু বছরের অভিজ্ঞ একজন ফুটবলার।’ অন্যদিকে, হালান্ড তখন ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করছিলেন। প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানো ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাস। মাঠে তাদের বোঝাপড়া যেমন ছিল নিখুঁত, মাঠের বাইরে বন্ধুত্বও ছিল তার চেয়েও গভীর। ক্লাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে প্রায়ই দেখা যেত, একে অপরকে মজার কথা বলে তারা হাসির রোল তুলছেন। কঠোর চেহারার হালান্ডকেও বেলিংহ্যামের পাশে শিশুর মতো প্রাণখোলা হাসতে দেখা যেত। ফুটবলাররা সাধারণত গণমাধ্যম এড়িয়ে চললেও, বেলিংহ্যামের সান্নিধ্যে হালান্ড ছিলেন অন্যরকম। ডর্টমুন্ডে কাটানো সেই দুই বছর ছিল তাদের খেলোয়াড়ি জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তারা শুধু ট্রফিই জেতেননি, একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাসও গড়ে তুলেছিলেন। ২০২১ সালে জার্মান কাপ জয়ের পর তাদের দুজনের এক ফ্রেমে তোলা ছবিটি আজও অমলিন স্মৃতি।

পরবর্তীতে তাদের পথ আলাদা হয়ে যায়। হালান্ড পাড়ি জমান ম্যানচেস্টার সিটিতে, আর বেলিংহ্যাম যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে। দূরত্ব বেড়েছে, জার্সি বদলেছে, লিগ বদলেছে; কিন্তু তাদের মধ্যকার সম্পর্ক অটুট রয়েছে। নিয়মিত যোগাযোগ এবং একে অপরের সাফল্যকে উদযাপন করার মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছেন যে, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনো বন্ধুত্বকে ম্লান করতে পারে না। এবার বিশ্বকাপে এই দুই বন্ধু যখন ভিন্ন জার্সিতে একে অপরের মুখোমুখি হবেন, তখন তা কেবলই এক ফুটবল ম্যাচ হবে না, বরং এক অটুট বন্ধুত্বের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনাও বটে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুলিয়ারচরে দুর্বৃত্তের হামলায় এক যুবক নিহত, এলাকায় উত্তেজনা

বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বন্ধু: বেলিংহ্যাম ও হালান্ডের ভিন্ন পথে যাত্রা

আপডেট সময় : ১১:০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ফুটবল শুধু গোল আর জয়ের খেলা নয়, এটি কখনো অসমাপ্ত কথোপকথন, কখনো পুরনো স্মৃতির হাতছানি, আবার কখনো দুই বন্ধুর ভিন্ন পথে হাঁটার এক মর্মস্পর্শী আখ্যান। এবারের বিশ্বকাপেও আমরা দেখতে পাব এমন এক বন্ধুত্বের গল্প, যেখানে জার্মানির ডর্টমুন্ডে একই ড্রেসিংরুমে স্বপ্ন দেখা দুই সতীর্থ আজ একে অপরের প্রতিপক্ষ। তারা হলেন ইংল্যান্ডের প্রাণভোমরা জুড বেলিংহ্যাম এবং নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। একজন লড়ছেন বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন নিয়ে, অন্যজন বুটজোড়া দিয়ে লিখতে চান নতুন ইতিহাস।

তাদের বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল ডর্টমুন্ডে। ২০২০ সালের শুরুতে সেখানে যোগ দেন হালান্ড, আর কয়েক মাস পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে পা রাখেন জুড বেলিংহ্যাম। যদিও বয়সে তরুণ, তার খেলা দেখে প্রথম দিন থেকেই বোঝা গিয়েছিল যে তিনি সাধারণ কেউ নন। ডর্টমুন্ড ক্লাবও তার সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরেছিল। এমনকি তাকে বিমানবন্দরে নিয়ে আসার জন্য তিনটি গাড়ি পাঠানো হয়েছিল; একটিতে বেলিংহ্যাম, বাকি দুটি সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার জন্য। ক্লাব তখন বুঝতে পেরেছিল, তারা শুধু একজন ফুটবলার নয়, বরং ভবিষ্যতের এক মহাতারকাকে বরণ করে নিচ্ছে। অভিষেক ম্যাচেই গোল করে বেলিংহ্যাম সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে থরগান হাজার্ডের মন্তব্যটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ: ‘ওর বয়স মাত্র ১৭, কিন্তু খেলা দেখে মনে হয় বহু বছরের অভিজ্ঞ একজন ফুটবলার।’ অন্যদিকে, হালান্ড তখন ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করছিলেন। প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানো ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাস। মাঠে তাদের বোঝাপড়া যেমন ছিল নিখুঁত, মাঠের বাইরে বন্ধুত্বও ছিল তার চেয়েও গভীর। ক্লাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে প্রায়ই দেখা যেত, একে অপরকে মজার কথা বলে তারা হাসির রোল তুলছেন। কঠোর চেহারার হালান্ডকেও বেলিংহ্যামের পাশে শিশুর মতো প্রাণখোলা হাসতে দেখা যেত। ফুটবলাররা সাধারণত গণমাধ্যম এড়িয়ে চললেও, বেলিংহ্যামের সান্নিধ্যে হালান্ড ছিলেন অন্যরকম। ডর্টমুন্ডে কাটানো সেই দুই বছর ছিল তাদের খেলোয়াড়ি জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তারা শুধু ট্রফিই জেতেননি, একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাসও গড়ে তুলেছিলেন। ২০২১ সালে জার্মান কাপ জয়ের পর তাদের দুজনের এক ফ্রেমে তোলা ছবিটি আজও অমলিন স্মৃতি।

পরবর্তীতে তাদের পথ আলাদা হয়ে যায়। হালান্ড পাড়ি জমান ম্যানচেস্টার সিটিতে, আর বেলিংহ্যাম যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে। দূরত্ব বেড়েছে, জার্সি বদলেছে, লিগ বদলেছে; কিন্তু তাদের মধ্যকার সম্পর্ক অটুট রয়েছে। নিয়মিত যোগাযোগ এবং একে অপরের সাফল্যকে উদযাপন করার মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছেন যে, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনো বন্ধুত্বকে ম্লান করতে পারে না। এবার বিশ্বকাপে এই দুই বন্ধু যখন ভিন্ন জার্সিতে একে অপরের মুখোমুখি হবেন, তখন তা কেবলই এক ফুটবল ম্যাচ হবে না, বরং এক অটুট বন্ধুত্বের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনাও বটে।