ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ‘নব্বই’, ‘উনসত্তর’ ও ‘চব্বিশ’-এর তুলনা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একদল যেখানে বর্তমান পরিস্থিতিকে নব্বইয়ের সঙ্গে মেলাতে চাইছে, আরেক দল এটিকে উনসত্তরের চেয়েও কম গুরুতর হিসেবে দেখাতে চাইছে। সমালোচকদের মতে, এই প্রবণতা মূলত বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল একটি সরকার পরিবর্তন বা পতন হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা, যা বাংলাদেশের রাজনীতির একটি বৈপ্লবিক বাঁক পরিবর্তনকে অস্বীকার করার শামিল।

১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনাকে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় মনে করছেন। তাদের যুক্তি, তৎকালীন এরশাদ সরকারের নয় বছরের শাসনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলের পার্থক্য আকাশ-পাতাল। এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং বর্তমান সরকারকে হটানোর প্রেক্ষাপট ও প্রক্রিয়া ভিন্ন এবং তুলনামূলকভাবে বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল।

অন্যদিকে, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও, সেই আন্দোলনে কতজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল, কত হাজার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল, বা হেলিকপ্টার থেকে নিজের দেশের মানুষের ওপর গুলি করা হয়েছিল কিনা, তা একটি আলোচনার বিষয়।

তবে, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মাত্রা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। উনসত্তরের আগে কত মানুষকে গুম করে পেট কেটে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, কত বিরোধীদলীয় নেতা ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন, বা কতজন নি-ক্যাপিংয়ের শিকার হয়ে সারাজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন—এসব প্রশ্ন বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সময়ে মানুষকে নির্যাতন করার জন্য হাঁটুতে গুলি করে চিকিৎসা না দেওয়ার মতো ভয়াবহ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে অনেককে সারাজীবন পঙ্গুত্ব বয়ে বেড়াতে হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা-সাতক্ষীরা-যশোর অঞ্চলে এমন ঘটনা প্রচুর ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও, উনসত্তরের আগে কত বিরোধীদলীয় সদস্যের চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে, বা কত লক্ষ লোক মিথ্যা মামলায় নির্যাতিত হয়েছে—এসব প্রশ্নও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। বিগত ১৬ বছরে হাজার হাজার গায়েবি মামলার ঘটনাকে বিশ্বরেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে গবেষণার আহ্বান জানানো হয়েছে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কথা সর্বজনবিদিত হলেও, বিগত ১৬ বছরে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বর্তমান সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের নামে অসংখ্য ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতায় কাতার, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক দেশগুলো

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ‘নব্বই’, ‘উনসত্তর’ ও ‘চব্বিশ’-এর তুলনা

আপডেট সময় : ০১:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একদল যেখানে বর্তমান পরিস্থিতিকে নব্বইয়ের সঙ্গে মেলাতে চাইছে, আরেক দল এটিকে উনসত্তরের চেয়েও কম গুরুতর হিসেবে দেখাতে চাইছে। সমালোচকদের মতে, এই প্রবণতা মূলত বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল একটি সরকার পরিবর্তন বা পতন হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা, যা বাংলাদেশের রাজনীতির একটি বৈপ্লবিক বাঁক পরিবর্তনকে অস্বীকার করার শামিল।

১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনাকে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় মনে করছেন। তাদের যুক্তি, তৎকালীন এরশাদ সরকারের নয় বছরের শাসনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলের পার্থক্য আকাশ-পাতাল। এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং বর্তমান সরকারকে হটানোর প্রেক্ষাপট ও প্রক্রিয়া ভিন্ন এবং তুলনামূলকভাবে বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল।

অন্যদিকে, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানকে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে। উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও, সেই আন্দোলনে কতজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল, কত হাজার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল, বা হেলিকপ্টার থেকে নিজের দেশের মানুষের ওপর গুলি করা হয়েছিল কিনা, তা একটি আলোচনার বিষয়।

তবে, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মাত্রা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। উনসত্তরের আগে কত মানুষকে গুম করে পেট কেটে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, কত বিরোধীদলীয় নেতা ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন, বা কতজন নি-ক্যাপিংয়ের শিকার হয়ে সারাজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন—এসব প্রশ্ন বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সময়ে মানুষকে নির্যাতন করার জন্য হাঁটুতে গুলি করে চিকিৎসা না দেওয়ার মতো ভয়াবহ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে অনেককে সারাজীবন পঙ্গুত্ব বয়ে বেড়াতে হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা-সাতক্ষীরা-যশোর অঞ্চলে এমন ঘটনা প্রচুর ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও, উনসত্তরের আগে কত বিরোধীদলীয় সদস্যের চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে, বা কত লক্ষ লোক মিথ্যা মামলায় নির্যাতিত হয়েছে—এসব প্রশ্নও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। বিগত ১৬ বছরে হাজার হাজার গায়েবি মামলার ঘটনাকে বিশ্বরেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে গবেষণার আহ্বান জানানো হয়েছে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কথা সর্বজনবিদিত হলেও, বিগত ১৬ বছরে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বর্তমান সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের নামে অসংখ্য ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।