চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গুনাগলি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে আকস্মিক বন্যায় প্রায় ৩০০টি বাড়ি জলমগ্ন হয়েছে। কোথাও কোমরসমান, কোথাও বুকসমান পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি। টানা বৃষ্টি এবং বন্যার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। স্থানীয় বাসিন্দা লাবুর ছোট্ট দোকানের দ্বিতীয় তলাটি এখন প্রায় অর্ধশত পানিবন্দী মানুষের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দোকানের নিচতলা সম্পূর্ণ ডুবে আছে, সরু সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই দেখা যায় পরিবারগুলো গাদাগাদি করে আশ্রয় নিয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের চোখে-মুখে চরম উদ্বেগ। তারা সবাই জানতে চাইছে, কবে এই জলমগ্নতা থেকে মুক্তি মিলবে। ৬৫ বছর বয়সী আহমেদ হোসেন, যিনি কালিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, জানান যে তিন দিন আগে পানি উঠতে শুরু করেছিল এবং ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাকে সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হতে হয়। তার ঘরের আসবাবপত্র, ধান, চাল, কাপড়—সবকিছুরই এখন কী অবস্থা, তা তিনি জানেন না। জীবনে অনেক বন্যা দেখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন অসহায়ত্ব তিনি আগে কখনো অনুভব করেননি।
এই আশ্রয়কেন্দ্রের এক কোণে অসহায়ভাবে বসে আছেন সাদিয়া সুলতানা, যার প্রসবের সময় ঘনিয়ে এসেছে। চারদিকে অথৈ পানি এবং গুনাগলির সড়কগুলো জলমগ্ন হওয়ায় হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি এবং তার স্বজনেরা উদ্বিগ্ন যে, হঠাৎ প্রসববেদনা শুরু হলে তাকে কীভাবে হাসপাতালে নেওয়া হবে। বন্যার মধ্যে একজন প্রসূতি মায়ের এই অনিশ্চয়তা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা অন্য মানুষদেরও চিন্তিত করে তুলেছে। হরদণ্ডী ইউনিয়নের ফারাছা বেগমও তার সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে একই আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন, কারণ তাদের ঘরের চাল পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে। তিনি জানান, কোনোমতে শুধু প্রাণ বাঁচিয়ে তারা বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, কোনো জিনিসপত্র নেওয়ার সুযোগ হয়নি। আশ্রয়কেন্দ্রে শিশুদের কান্না যেন থামছেই না, কেউ খাবার চাইছে, কেউ দুধ, আবার কেউ ভয়ে মায়ের আঁচল ধরে আছে।
রিপোর্টারের নাম 






















