সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ হলো। সরকারের নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ ও আইনজীবীরা এই রায়কে দেশবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রায়ের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে দেশে একনায়কতন্ত্রের পথ রুদ্ধ হলো। সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান অন্তর্ভুক্ত হবে, যা একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সহায়ক হবে।
আইনজীবীরা জানান, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা একটি সর্বজনস্বীকৃত পদ্ধতি। পূর্ববর্তী সরকার এই ব্যবস্থা বাতিল করার উদ্যোগ নেয়। ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে একতরফাভাবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান বিলোপ করা হয়েছিল। ওই সংশোধনীতে সংবিধানের ৫৪টি অনুচ্ছেদ ও উপঅনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পূর্ববর্তী সরকারের পতনের প্রেক্ষিতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং গণভোটের বিধান সংবিধানে পুনর্বহালের আদেশ দেয়। গতকাল প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে চার বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের সেই রায় বহাল রেখে চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি এটিকে একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৬ বছরের আন্দোলনের ফসল হিসেবে অভিহিত করেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
রিপোর্টারের নাম 























