ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

মাতামুহুরীর বেড়িবাঁধ ভেঙে পেকুয়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি, তীব্র সংকট

কক্সবাজারের পেকুয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যে সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা এলাকায় বেড়িবাঁধের দুটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় মুহূর্তেই নদীর পানি আশপাশের জনপদে ছড়িয়ে পড়ে।

পেকুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আনসারী জানান, বুধবার রাতেই স্থানীয় শত শত মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রবল স্রোতের কাছে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ভোরের দিকে বেড়িবাঁধের দুটি অংশ ধসে পড়লে হু হু করে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে।

বন্যার কারণে অসংখ্য বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রান্নাঘর ডুবে যাওয়ায় অনেক পরিবার খাবার রান্নাও করতে পারছে না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ।

উপজেলার উজানটিয়া, রাজাখালী, মগনামা, টইটং, শিলখালী, বারবাকিয়া ও সদর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

উজানটিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা মীর মশাররফ হোসেন টিটু অভিযোগ করেন, মাতামুহুরী নদী ও বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন ১২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধের শতাধিক স্থানে অবৈধভাবে মাছ ধরার ফাঁদ বা ‘নাসি’ বসানো হয়েছে। এছাড়াও পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্লুইসগেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না এবং জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন খাল, নালা ও পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট দখল করে মাছের ঘের ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় পাহাড়ি ঢলের পানি আটকে যাচ্ছে। এতে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মগনামা, রাজাখালী ও অন্যান্য এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে লবণ চাষ এবং বর্ষা মৌসুমে মাছের ঘের ও ধান চাষের সুবিধার্থে এসব অবৈধ কার্যক্রম চলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতায় কাতার, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক দেশগুলো

মাতামুহুরীর বেড়িবাঁধ ভেঙে পেকুয়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি, তীব্র সংকট

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের পেকুয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যে সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা এলাকায় বেড়িবাঁধের দুটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় মুহূর্তেই নদীর পানি আশপাশের জনপদে ছড়িয়ে পড়ে।

পেকুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আনসারী জানান, বুধবার রাতেই স্থানীয় শত শত মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের প্রবল স্রোতের কাছে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ভোরের দিকে বেড়িবাঁধের দুটি অংশ ধসে পড়লে হু হু করে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে।

বন্যার কারণে অসংখ্য বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রান্নাঘর ডুবে যাওয়ায় অনেক পরিবার খাবার রান্নাও করতে পারছে না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ।

উপজেলার উজানটিয়া, রাজাখালী, মগনামা, টইটং, শিলখালী, বারবাকিয়া ও সদর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

উজানটিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা মীর মশাররফ হোসেন টিটু অভিযোগ করেন, মাতামুহুরী নদী ও বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন ১২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধের শতাধিক স্থানে অবৈধভাবে মাছ ধরার ফাঁদ বা ‘নাসি’ বসানো হয়েছে। এছাড়াও পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্লুইসগেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না এবং জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন খাল, নালা ও পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট দখল করে মাছের ঘের ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় পাহাড়ি ঢলের পানি আটকে যাচ্ছে। এতে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। মগনামা, রাজাখালী ও অন্যান্য এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে লবণ চাষ এবং বর্ষা মৌসুমে মাছের ঘের ও ধান চাষের সুবিধার্থে এসব অবৈধ কার্যক্রম চলে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।