জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রার তীব্রতা। সম্প্রতি কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সি৩এস) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত জুন মাস ছিল পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম মাস এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা ওই মাসে এযাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল, যা অনেক দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত করেছে এবং স্কুল বন্ধ করতে বাধ্য করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ পরিষেবা জানিয়েছে, স্থলভাগ ও মহাসাগরজুড়ে ক্রমাগত উষ্ণায়নের ফলেই এই অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক গড় ভূপৃষ্ঠের বায়ুর তাপমাত্রা ১৬.৫৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। গত মাসে পশ্চিম ইউরোপের গড় তাপমাত্রা ছিল ২০.৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ১৯৯১-২০২০ সালের জুন মাসের গড় তাপমাত্রার চেয়ে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
এই তীব্র তাপপ্রবাহের শিকার হয়ে জার্মানিতে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশিরভাগই ঘটেছে জুন মাসে। এই মাসে দেশটির সাপ্তাহিক গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়ামের অনেক বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) এই উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছে। আরকেআই তাদের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে আরও জানায়, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় চার হাজার ২৭০ জন ছিলেন ৭৫ বছর বা তারও বেশি বয়সি। পুরুষের তুলনায় নারীদের মৃত্যু বেশি হয়েছে, কারণ অতিবৃদ্ধদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি।
জার্মানির এই চিত্র ইউরোপজুড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরছে। এছাড়া ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসে ২০-২৮ জুনের তাপপ্রবাহে চার হাজার ৭০০-এরও বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর খবর জানিয়েছে জাতীয় কর্তৃপক্ষগুলো। অন্যান্য দেশে এই সংখ্যা সম্ভবত আরও বেশি। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে আইবেরিয়া ও ফ্রান্সে দাবানল সৃষ্টি হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুড়িয়ে দিয়েছে এবং খরা পরিস্থিতি আরও তীব্র করেছে। কোপারনিকাস জানিয়েছে, স্পেন ও ব্রিটেন থেকে পূর্বদিকে ইতালি, জার্মানি এবং অস্ট্রিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত পশ্চিম ইউরোপ তিন মাসের মধ্যে তিনটি তীব্র তাপপ্রবাহের শিকার হয়েছে। চলতি সপ্তাহে স্পেন ও পর্তুগালসহ বেশ কয়েকটি দেশ আরও একটি তাপপ্রবাহের কবলে পড়তে যাচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মতে, কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।
রিপোর্টারের নাম 





















