ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

মূল্যস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমল

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা কমার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এই দরপতন হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে দেরি হওয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট অব্যাহত রয়েছে, তবুও চাহিদার নিম্নমুখী প্রবণতা দাম কমানোর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ চলাচল করত। এই প্রণালিতে চলমান অস্থিরতা সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করলেও, বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাভাবের পূর্বাভাস তেলের দাম কমার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৭২ ডলার বা ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৭৬ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৪ ডলার বা ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত ১৯ জুনের পর এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এতে তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। তবে ম্যাকোয়ারি গ্রুপের গ্লোবাল এনার্জি স্ট্র্যাটেজিস্ট বিকাশ দ্বিবেদী এক নোটে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না, কারণ উভয় দেশই এখন বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সীমাবদ্ধ।

তেহরানসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত কাতার বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আবারও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্ক ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। মার্কিন ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস-এর বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পর প্রথম ১০ দিনের মধ্যে পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রাক-যুদ্ধকালীন সময়ের ৮০ শতাংশের ওপরে পৌঁছেছিল। তবে সম্প্রতি ট্যাংকারগুলোতে নতুন করে হামলার কারণে তা স্বাভাবিক সময়ের ৭০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতায় কাতার, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক দেশগুলো

মূল্যস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমল

আপডেট সময় : ০১:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে গেছে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা কমার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এই দরপতন হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে দেরি হওয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট অব্যাহত রয়েছে, তবুও চাহিদার নিম্নমুখী প্রবণতা দাম কমানোর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ চলাচল করত। এই প্রণালিতে চলমান অস্থিরতা সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করলেও, বিশ্ব অর্থনীতির মন্দাভাবের পূর্বাভাস তেলের দাম কমার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৭২ ডলার বা ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৭৬ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৪ ডলার বা ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত ১৯ জুনের পর এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২২ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এতে তিন সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। তবে ম্যাকোয়ারি গ্রুপের গ্লোবাল এনার্জি স্ট্র্যাটেজিস্ট বিকাশ দ্বিবেদী এক নোটে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না, কারণ উভয় দেশই এখন বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে সীমাবদ্ধ।

তেহরানসহ অন্যান্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত কাতার বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং আবারও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্ক ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। মার্কিন ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস-এর বিশ্লেষকেরা এক প্রতিবেদনে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পর প্রথম ১০ দিনের মধ্যে পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ প্রাক-যুদ্ধকালীন সময়ের ৮০ শতাংশের ওপরে পৌঁছেছিল। তবে সম্প্রতি ট্যাংকারগুলোতে নতুন করে হামলার কারণে তা স্বাভাবিক সময়ের ৭০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।