ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

গোদাগাড়ীতে দুই মাদক কারবারির সম্পদ ক্রোক, আরও ২০ জনের অনুসন্ধান চলছে

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যৌথভাবে মাদকের অবৈধ কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে দুই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে এবং আরও ২০ জনের ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়া মাদক কারবারিদের মধ্যে সম্পদ হারানোর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে গোদাগাড়ীর তালিকাভুক্ত ১৮৪ জন হেরোইন মাফিয়ার ব্যাপারে তদন্ত করা হবে। নতুন করে তালিকাভুক্ত হয়ে আইনের আওতায় আসার ভয়ে অনেক মাদক কারবারি বর্তমানে আত্মগোপনে চলে গেছেন। স্থানীয় বিশিষ্টজনরা এই সম্পদ ক্রোকের বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের শেষ দিক থেকে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদ খুঁজে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। যাদের বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও বিপুল সম্পদ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মিস পিটিশন মামলা করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে জানানো হয়েছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে গত দুই মাসে দুজনের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং ২০ জনের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চলছে। তালিকায় থাকা ১৮৪ জন গডফাদারের বিষয়েও তদন্ত হবে।

গোদাগাড়ীর সহড়াগাছি গ্রামের মাদক কারবারি মো. আব্দুল্লাহ ও তার স্ত্রী সায়েরা বেগমের নামে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক আলী আসলাম হোসেন। সেই মামলায় রাজশাহীর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত গত ৬ এপ্রিল আব্দুল্লাহ ও তার স্ত্রী সায়েরার সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন।

এছাড়াও, একই আদালত গত ২৩ মে শীর্ষ মাদক কারবারি তারেক হোসেনের ১৯৯.১১৭৫ শতাংশ জমি ক্রোক করার আদেশ দেন। গত বছরের ২২ এপ্রিল তারেকের গরুর খামার থেকে সাড়ে ৬ কেজি হেরোইনসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারেকের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, ক্রোকাদেশ থাকা সম্পত্তি কোনোভাবেই বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না এবং আদালতের এই আদেশ তারা পেয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতায় কাতার, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক দেশগুলো

গোদাগাড়ীতে দুই মাদক কারবারির সম্পদ ক্রোক, আরও ২০ জনের অনুসন্ধান চলছে

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যৌথভাবে মাদকের অবৈধ কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে দুই শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে এবং আরও ২০ জনের ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়া মাদক কারবারিদের মধ্যে সম্পদ হারানোর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে গোদাগাড়ীর তালিকাভুক্ত ১৮৪ জন হেরোইন মাফিয়ার ব্যাপারে তদন্ত করা হবে। নতুন করে তালিকাভুক্ত হয়ে আইনের আওতায় আসার ভয়ে অনেক মাদক কারবারি বর্তমানে আত্মগোপনে চলে গেছেন। স্থানীয় বিশিষ্টজনরা এই সম্পদ ক্রোকের বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বছরের শেষ দিক থেকে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদ খুঁজে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। যাদের বৈধ আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও বিপুল সম্পদ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মিস পিটিশন মামলা করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে জানানো হয়েছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে গত দুই মাসে দুজনের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং ২০ জনের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চলছে। তালিকায় থাকা ১৮৪ জন গডফাদারের বিষয়েও তদন্ত হবে।

গোদাগাড়ীর সহড়াগাছি গ্রামের মাদক কারবারি মো. আব্দুল্লাহ ও তার স্ত্রী সায়েরা বেগমের নামে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক আলী আসলাম হোসেন। সেই মামলায় রাজশাহীর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত গত ৬ এপ্রিল আব্দুল্লাহ ও তার স্ত্রী সায়েরার সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেন।

এছাড়াও, একই আদালত গত ২৩ মে শীর্ষ মাদক কারবারি তারেক হোসেনের ১৯৯.১১৭৫ শতাংশ জমি ক্রোক করার আদেশ দেন। গত বছরের ২২ এপ্রিল তারেকের গরুর খামার থেকে সাড়ে ৬ কেজি হেরোইনসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারেকের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, ক্রোকাদেশ থাকা সম্পত্তি কোনোভাবেই বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না এবং আদালতের এই আদেশ তারা পেয়েছেন।