পারস্য উপসাগরীয় দুই গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। সম্প্রতি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থ স্থানান্তরে বিলম্ব বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বিরোধে নতুন তিক্ততা যোগ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চলতি বছরের মে মাস থেকেই সৌদি ব্যাংক থেকে আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কোনো অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর সম্ভব হচ্ছে না বা তা ফেরত পাঠানো হচ্ছে। যদিও সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের কোনো ‘নিষেধাজ্ঞা আরোপ’ করার তথ্য অস্বীকার করেছে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই এই দুই পারস্য উপসাগরীয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। ঐতিহ্যগতভাবে মিত্র হলেও, বেশ কিছু ইস্যুতে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সঙ্গে আমিরাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যেখানে সৌদি আরব এখনও ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়নি। এছাড়া সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনে রিয়াদের নীতির বাইরে গিয়ে আবুধাবি বিচ্ছিন্নতাবাদী ভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বিরোধের অন্যতম কারণ।
আরব বিশ্বের মধ্যে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দুটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। সৌদি আরবের জিডিপি এক লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার এবং আমিরাতের জিডিপি ৫৫ হাজার কোটি ডলার। দেশ দুটির মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্য দুই হাজার কোটি ডলারের। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন কোম্পানি সৌদি বাজার পরিচালনা করতে দুবাইকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। তবে রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরেই এই কোম্পানিগুলোকে সৌদি আরবে তাদের দপ্তর স্থানান্তরের জন্য চাপ দিচ্ছে, যাতে দেশটির ব্যবসা, চাকরি ও বিনিয়োগ অভ্যন্তরীণভাবেই পরিচালিত হয়।
মিডল ইস্ট আইকে আমেরিকার থিংক ট্যাংক বেকার ইনস্টিটিউটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোয়াটস উলরিকসেন বলেন, ‘দুপক্ষের মধ্যে সব সময়ই অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ছিল এবং এ ধরনের ব্যবস্থাপনা এটিই প্রথমবারের মতো নয়।’ গত ডিসেম্বরে যখন রিয়াদ ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত বাহিনীকে আক্রমণকারী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়ার জন্য আবুধাবিকে অভিযুক্ত করে, তখন উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এর মধ্যে আমিরাতের ইয়েমেনি মিত্রদের ওপর সৌদির হামলার পর আবুধাবি ইয়েমেন থেকে তার সামরিক শক্তি প্রত্যাহার করে নেয়।
রিপোর্টারের নাম 






















