ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অচল দেশ, বিচ্ছিন্ন রাজধানী; আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা আদেশ

সরকারি চাকরিতে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালিত হয়। এই কর্মসূচির জেরে রাজধানী ঢাকা কার্যত সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অচল হয়ে যায় রেলপথ, সড়ক ও মহাসড়ক। একই দিনে সরকারি চাকরির নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেড পর্যন্ত কোটার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষে আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। তবে আদালতের এই আদেশও আন্দোলন দমাতে পারেনি; বরং নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে।

১০ জুলাইয়ের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পৌনে ৮টা পর্যন্ত চলে এই অবরোধ। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। শাহবাগ ছাড়াও সায়েন্স ল্যাব মোড়, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, চানখাঁরপুল, মৎস্য ভবন, জিপিও, রামপুরা ব্রিজ, আগারগাঁও, হাতিরঝিল মোড় এবং মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি পয়েন্টে অবরোধের কারণে রাজধানী ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল।

আন্দোলনকারীরা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ফার্মগেট অংশেও অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাপক যাত্রীচাপের কারণে মেট্রোরেলের সচিবালয় ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্টেশনের প্রবেশ ফটকে তালা দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। অবরোধের মধ্যে গাড়ি নিয়ে আটকা পড়ে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলিকে সিএনজি অটোরিকশায় চেপে সংসদে যেতে হয়, যেখানে তিনি তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ঢাকার বাইরেও আন্দোলনের প্রভাব ছিল ব্যাপক। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী, সাভার, গোপালগঞ্জ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, বরিশাল, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, পাবনা, দিনাজপুর, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং পটুয়াখালীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর একাধিক স্থানে শিক্ষার্থীরা অবরোধ গড়ে তোলেন, যার ফলে দূরপাল্লার যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

একই দিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং ময়মনসিংহসহ দেশের সাতটি স্থানে রেলপথ অবরোধ করা হয়। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ দুপুর ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এই অবরোধের কারণে অন্তত ২২টি ট্রেনের রাজধানীতে প্রবেশ এবং ফিরতি যাত্রা বিলম্বিত হয়, যা অসংখ্য যাত্রীকে ভোগান্তিতে ফেলে।

অবশেষে, ১০ জুলাই সন্ধ্যা নাগাদ কিছু জায়গায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ৭টায় তাদের অবরোধ তুলে নেন, যা দিয়ে দিনব্যাপী এই চরম অচলাবস্থার আংশিক অবসান ঘটে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতায় কাতার, পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক দেশগুলো

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অচল দেশ, বিচ্ছিন্ন রাজধানী; আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা আদেশ

আপডেট সময় : ০১:৩৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

সরকারি চাকরিতে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিল ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১০ জুলাই সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালিত হয়। এই কর্মসূচির জেরে রাজধানী ঢাকা কার্যত সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অচল হয়ে যায় রেলপথ, সড়ক ও মহাসড়ক। একই দিনে সরকারি চাকরির নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেড পর্যন্ত কোটার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষে আপিল বিভাগ স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। তবে আদালতের এই আদেশও আন্দোলন দমাতে পারেনি; বরং নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে।

১০ জুলাইয়ের ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পৌনে ৮টা পর্যন্ত চলে এই অবরোধ। কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন। শাহবাগ ছাড়াও সায়েন্স ল্যাব মোড়, কাঁটাবন, নীলক্ষেত, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, ফার্মগেট, বিজয় সরণি, মহাখালী, চানখাঁরপুল, মৎস্য ভবন, জিপিও, রামপুরা ব্রিজ, আগারগাঁও, হাতিরঝিল মোড় এবং মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি পয়েন্টে অবরোধের কারণে রাজধানী ঢাকা কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল।

আন্দোলনকারীরা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ফার্মগেট অংশেও অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাপক যাত্রীচাপের কারণে মেট্রোরেলের সচিবালয় ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্টেশনের প্রবেশ ফটকে তালা দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। অবরোধের মধ্যে গাড়ি নিয়ে আটকা পড়ে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলিকে সিএনজি অটোরিকশায় চেপে সংসদে যেতে হয়, যেখানে তিনি তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ঢাকার বাইরেও আন্দোলনের প্রভাব ছিল ব্যাপক। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী, সাভার, গোপালগঞ্জ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, বরিশাল, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, পাবনা, দিনাজপুর, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং পটুয়াখালীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর একাধিক স্থানে শিক্ষার্থীরা অবরোধ গড়ে তোলেন, যার ফলে দূরপাল্লার যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

একই দিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং ময়মনসিংহসহ দেশের সাতটি স্থানে রেলপথ অবরোধ করা হয়। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ দুপুর ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এই অবরোধের কারণে অন্তত ২২টি ট্রেনের রাজধানীতে প্রবেশ এবং ফিরতি যাত্রা বিলম্বিত হয়, যা অসংখ্য যাত্রীকে ভোগান্তিতে ফেলে।

অবশেষে, ১০ জুলাই সন্ধ্যা নাগাদ কিছু জায়গায় অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ৭টায় তাদের অবরোধ তুলে নেন, যা দিয়ে দিনব্যাপী এই চরম অচলাবস্থার আংশিক অবসান ঘটে।