ঢাকা কেবল একটি জনবহুল মহানগরীই নয়, এর অলিগলিতে মিশে আছে শত বছরের আধ্যাত্মিক ইতিহাস। সুদূর প্রাচীনকাল থেকে ইসলাম প্রচার ও মানবসেবার ব্রত নিয়ে বহু সুফি-সাধক ও পীর-মাশায়েখ এই শহরে পা রেখেছিলেন। তাদের রুহানিয়াতের ছোঁয়ায় ঢাকা হয়ে উঠেছিল আধ্যাত্মিকতার এক অনন্য কেন্দ্রবিন্দু। স্বনামধন্য সুফি মীর সৈয়দ আশরাফ জাহাঙ্গীর সিমনানির বর্ণনা অনুযায়ী, বাংলার এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে পুণ্যবান সুফিরা বসতি স্থাপন করেননি।
ঢাকার সুফি ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাণপুরুষ হলেন হজরত সুফি মুহাম্মদ দায়েম। আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে চট্টগ্রাম থেকে এসে তিনি আজিমপুর এলাকায় দায়রা শরিফ প্রতিষ্ঠা করেন। তার আধ্যাত্মিক প্রভাবে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ প্রশান্তির আশায় ছুটে আসতেন। ১৭৬৯ সালে তার প্রতিষ্ঠিত মসজিদটি আজও আজিমপুর দায়রা শরিফের অংশ হিসেবে স্বমহিমায় টিকে আছে। পীরের নির্দেশে লঙ্গরখানা পরিচালনা ও জনসেবায় তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
অপরদিকে, মওলানা শাহ আবদুর রহীম শহীদ ছিলেন ঢাকার আরেকজন প্রখ্যাত সাধক। কাশ্মীর থেকে আসা এই আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব দীর্ঘকাল ইবাদতে মগ্ন থাকার পর ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে খানকাহ স্থাপন করেন। ১৭৪৫ সালে এক আততায়ীর হামলায় তিনি শাহাদতবরণ করেন। লক্ষ্মীবাজারের মিয়া সাহেবের ময়দানে তার মাজারটি আজও ভক্তদের কাছে এক পবিত্র স্থান হিসেবে সমাদৃত। এই সুফি সাধকদের জীবন ও আদর্শ ঢাকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
রিপোর্টারের নাম 
























