ক্যালেন্ডারের পাতায় জুলাই মাসটি এখন কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি একটি জাতির বুকভরা সাহস, অশ্রু আর আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি। এই মাস এলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে উত্তাল রাজপথ, অসংখ্য তরুণের দৃপ্ত মুখ এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বদলে যাওয়া অসংখ্য পরিবারের চিত্র। বৃষ্টিভেজা আকাশ আর মেঘের গর্জনের ভেতর যেন এখনো শোনা যায় সেই দিনগুলোর প্রতিধ্বনি, যখন শাহবাগ থেকে চট্টগ্রাম, রংপুর থেকে খুলনা – সারা দেশের রাজপথ জেগে উঠেছিল।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের শুরুতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল সরকারি চাকরির কোটাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে। শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করেছিল, রাষ্ট্রের নিয়োগব্যবস্থায় আরও ন্যায্যতা ও সমতা প্রতিষ্ঠা জরুরি। শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন, প্রতিবাদ মিছিল আর যুক্তিনির্ভর স্লোগানের মাধ্যমে তারা তাদের দাবি তুলে ধরেছিল। কিন্তু সরকার যুক্তির পথে না হেঁটে বন্দুকের নলের মাধ্যমে প্রতিবাদ দমনের পথ বেছে নেয়, যা আন্দোলনকে দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে এই আন্দোলন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার পতন এবং ভারতীয় আধিপত্যের অবসানের এক দফা দাবিতে পরিণত হয়।
১৬ জুলাই আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ছিল বারুদের স্তূপে আগুন দেওয়ার মতো। এই ঘটনা দেশবাসীকে রাজপথে নামতে উদ্বুদ্ধ করে। আন্দোলন দমনে সরকার গণহত্যার পথ বেছে নিলেও মানুষকে দমাতে পারেনি। কারণ, ইতিহাসে এমন অনেক সময় এসেছে যখন মানুষ বুঝেছে, ভয়কে জয় করতে না পারলে ভবিষ্যৎকে জয় করা যায় না। জুলাইয়ের তরুণরাও সেই বিশ্বাস নিয়েই বুক চিতিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল।
জুলাইয়ের আকাশ তখন শুধু বর্ষার মেঘে ভারী ছিল না, ভারী ছিল অজস্র মানুষের প্রত্যাশায়। রাজপথে দাঁড়ানো প্রতিটি তরুণ জানত না, ইতিহাস তাদের কী নামে মনে রাখবে। কিন্তু তারা জানত, নীরব থেকে অন্যায় মেনে নেওয়ার চেয়ে নিজের বিশ্বাসের পাশে দাঁড়ানো অনেক বেশি সম্মানের।
রিপোর্টারের নাম 

























