১৯৭৫ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে একটি অন্ধকার দিন হিসেবে চিহ্নিত। এই দিনে তৎকালীন সরকার মাত্র চারটি পত্রিকা চালু রেখে বাকি সব সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিল, যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর এক চরম আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাত্র কয়েক মাস আগে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একদলীয় বাকশাল শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল, যা এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে স্তিমিত করে দেয়।
ঐতিহাসিক এই প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পাকিস্তান আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করা নেতৃত্বই স্বাধীন বাংলাদেশে ভিন্ন এক রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। এই রাজনৈতিক বৈপরীত্য ইতিহাসে বিরল। যদিও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে, কিন্তু সেই সময়কার বিভক্তি ও সংঘাতের রাজনীতি আজও দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর প্রভাব ফেলে যাচ্ছে।
নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আদর্শিক বিভাজন সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পথে বারবার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি সুস্থ ও সবল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা অপরিহার্য হলেও, বাংলাদেশে তা বারবার হোঁচট খেয়েছে। জাতীয় ঐক্যের অভাব এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণে সংবাদপত্রের জন্য একটি সর্বজনীন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন আজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























