২০১১ সালের জানুয়ারি মাসের সেই করুণ দৃশ্য আজও বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে ক্ষত হয়ে আছে। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারানো পনেরো বছর বয়সী কিশোরী ফেলানী খাতুনের নিথর দেহ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল দীর্ঘ সময়। দীর্ঘ দেড় দশক পার হয়ে গেলেও সেই হত্যার বিচার মেলেনি। ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম আজও বিচারের আশায় আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন, কিন্তু অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য বারবার খালাস পেয়েছেন এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে আছে রিট আবেদন।
ফেলানী হত্যা কেবল একটি ব্যক্তিগত বিয়োগান্তক ঘটনা নয়, বরং এটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নিষ্ঠুরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক চরম উদাহরণ। পৃথিবীর কোনো সভ্য সীমান্তেই মানুষকে এভাবে পাখির মতো গুলি করে হত্যার নজির কাম্য নয়। এই ঘটনার বিচারহীনতা আমাদের কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের ওপরও বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেয়।
সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অন্যের দিকে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি আমাদের নিজেদের সক্ষমতা ও কূটনৈতিক দৃঢ়তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। ফেলানীর মতো আর কোনো নাগরিককে যেন এভাবে অকাতরে প্রাণ দিতে না হয় এবং প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের যেন সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হয়, সেটিই এখন সময়ের দাবি।
রিপোর্টারের নাম 

























