ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

ন্যাটো সম্মেলনে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধিতে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা

আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো কয়েক বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখাতে চায় যে, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সোমবার এই তথ্য জানিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের সমালোচনার পর ট্রাম্প ৩২ সদস্যের এই জোটের নেতাদের সঙ্গে মঙ্গলবার আঙ্কারার শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ন্যাটো সদস্যরা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই প্রতিশ্রুতির এক বছর পরই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মার্ক রুটে সাংবাদিকদের জানান, মাত্র এক বছরের মধ্যেই জোট যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এবং কানাডা ইতোমধ্যে তাদের জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ করছে। একই সঙ্গে তারা কীভাবে চূড়ান্ত ৫ শতাংশ লক্ষ্যে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও তুলে ধরবে।

মিত্ররা যে কেবল কথায় নয়, বাস্তবেও অর্থ ব্যয় করছে, তা ট্রাম্পকে বোঝাতে শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামে একাধিক বড় অস্ত্রচুক্তি ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রুটে বলেন, “আমরা কয়েক দশ বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি ঘোষণা করব, যা প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করবে।”

তিনি আরও জানান, গত বছর ইউরোপীয় মিত্র দেশ ও কানাডা আগের বছরের তুলনায় মূল প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে। রুটে বলেন, “২০২৫ ও ২০২৬ এই দুই বছর মিলিয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা নিজেদের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ করছি। আজ এবং ভবিষ্যতে আমাদের সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে যা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করছি। কারণ আমাদের সামনে থাকা হুমকিগুলো বাস্তব, বিশেষ করে রাশিয়ার দিক থেকে।” ন্যাটো মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন, নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি করে নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলো এখন ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই শীর্ষ সম্মেলনের একটি অংশে অংশ নেবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল: হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত, ট্যুর দ্য ফ্রান্সের ধাপে নিষেধাজ্ঞা

ন্যাটো সম্মেলনে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধিতে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা

আপডেট সময় : ০২:৩৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো কয়েক বিলিয়ন ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তি ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখাতে চায় যে, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সোমবার এই তথ্য জানিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের সমালোচনার পর ট্রাম্প ৩২ সদস্যের এই জোটের নেতাদের সঙ্গে মঙ্গলবার আঙ্কারার শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ন্যাটো সদস্যরা ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই প্রতিশ্রুতির এক বছর পরই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মার্ক রুটে সাংবাদিকদের জানান, মাত্র এক বছরের মধ্যেই জোট যুগান্তকারী অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এবং কানাডা ইতোমধ্যে তাদের জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ করছে। একই সঙ্গে তারা কীভাবে চূড়ান্ত ৫ শতাংশ লক্ষ্যে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও তুলে ধরবে।

মিত্ররা যে কেবল কথায় নয়, বাস্তবেও অর্থ ব্যয় করছে, তা ট্রাম্পকে বোঝাতে শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি আয়োজিত প্রতিরক্ষা শিল্প ফোরামে একাধিক বড় অস্ত্রচুক্তি ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রুটে বলেন, “আমরা কয়েক দশ বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি ঘোষণা করব, যা প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করবে।”

তিনি আরও জানান, গত বছর ইউরোপীয় মিত্র দেশ ও কানাডা আগের বছরের তুলনায় মূল প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে। রুটে বলেন, “২০২৫ ও ২০২৬ এই দুই বছর মিলিয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা নিজেদের নিরাপত্তায় বিনিয়োগ করছি। আজ এবং ভবিষ্যতে আমাদের সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে যা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করছি। কারণ আমাদের সামনে থাকা হুমকিগুলো বাস্তব, বিশেষ করে রাশিয়ার দিক থেকে।” ন্যাটো মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন, নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি করে নেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলো এখন ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই শীর্ষ সম্মেলনের একটি অংশে অংশ নেবেন।