ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গ্রাফিতিতে নতুন করে উঠে আসা শহীদ ফেলানী খাতুনের স্মৃতিস্তম্ভ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর থেকে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তবে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব জানিয়েছেন যে ফেলানীর স্মৃতিস্তম্ভ সরানো হয়নি বরং অন্যান্য আরও কন্টেন্টের সঙ্গে এটি পর্যালোচনার জন্য বর্তমানে স্টোরে সংরক্ষিত আছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে আগামী ৫ আগস্ট জুলাই জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে এবং তার আগে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের নতুন পরিচালনা পর্ষদই জাদুঘরে কী রাখা হবে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারান বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা তার মৃতদেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকার মর্মান্তিক দৃশ্য দেশি ও বিদেশি গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বিয়ের উদ্দেশ্যে দেশে ফেরার পথে প্রাণ হারানো ফেলানীকে তখন থেকেই সীমান্ত হত্যার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপসচিব সুকর্ণ আহমেদ জাদুঘরে ফেলানীর স্মৃতিস্তম্ভ দেখতে না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
এই পরিস্থিতির মাঝে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে এই সময়ের মধ্যে জাদুঘর চালু না হলে জনগণ নিজেরাই সেটি উন্মুক্ত করে দেবে। অন্যদিকে জাতীয় জাদুঘরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে জুলাই জাদুঘরে কী কী কন্টেন্ট প্রদর্শিত হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পরই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। তবে আগামী ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার প্রস্তুতি চলছে।
জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে জাদুঘরে কোনো কিছু লুকানোর সুযোগ নেই কারণ এটি জনসাধারণের জন্যই উন্মুক্ত করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তৈরি অসংখ্য কন্টেন্ট নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং নতুন পর্ষদই প্রদর্শনীর বিষয়ে শেষ কথা বলবে। সামাজিক মাধ্যমে চলমান এসব আলোচনাকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি সবাইকে সংবেদনশীল বিষয়ে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান যে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সাংবাদিকদের জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার তীব্র গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। সেই অভ্যুত্থানের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড মুহাম্মদ ইউনূস এবং তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এটি চালুর তাগিদ দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরের ১৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 























