ঢাকা ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

কার্যালয়ে তালা দিলেও মানুষের হৃদয়ে তালা দেওয়া যাবে না: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে বিদ্রোহী শিবিরের একটি অংশ দলীয় কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে এক ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, জোর করে কার্যালয়ে তালা দেওয়া সম্ভব হলেও মানুষের হৃদয়ে কখনো তালা দেওয়া যাবে না।

মেট্রোপলিটানের ওই অস্থায়ী কার্যালয়টি নিয়ে বিদ্রোহীদের তোলা ‘মালিকানাহীন’ বা ‘ভাড়া বকেয়া’ থাকার দাবি নাকচ করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লাইভে তিনি ভবনটির সমস্ত নথিপত্র ও ভাড়ার রসিদ জনসমক্ষে প্রদর্শন করেন। মমতা জানান, কালীঘাটের মূল কার্যালয়টি সংস্কারাধীন থাকায় নিয়ম মেনে প্রতি মাসে এক লক্ষ টাকা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর পরিশোধ করে এই ভবনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এসে কেন সেখানে তালা দেওয়া হলো, তা নিয়ে তিনি তীব্র প্রশ্ন তোলেন।

তৃণমূলের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটিই শুরু থেকে দলের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা বহাল থাকবে। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই তাকে মানুষের মন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারবে না।

উল্লেখ্য, এর আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিদ্রোহী বিধায়ক মেট্রোপলিটনের ওই কার্যালয়ে বৈঠক করেন এবং ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এই ঘটনার পর দলের দীর্ঘদিনের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেছেন এবং কুণাল ঘোষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। নির্বাচন কমিশনে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ প্রমাণের চেষ্টার মাঝে মমতার এই কড়া অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে মেসির অতিমানবীয় রেকর্ড: টানা ৮ ম্যাচে গোল করে গড়লেন নতুন ইতিহাস

কার্যালয়ে তালা দিলেও মানুষের হৃদয়ে তালা দেওয়া যাবে না: মমতা

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে বিদ্রোহী শিবিরের একটি অংশ দলীয় কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে এক ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, জোর করে কার্যালয়ে তালা দেওয়া সম্ভব হলেও মানুষের হৃদয়ে কখনো তালা দেওয়া যাবে না।

মেট্রোপলিটানের ওই অস্থায়ী কার্যালয়টি নিয়ে বিদ্রোহীদের তোলা ‘মালিকানাহীন’ বা ‘ভাড়া বকেয়া’ থাকার দাবি নাকচ করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লাইভে তিনি ভবনটির সমস্ত নথিপত্র ও ভাড়ার রসিদ জনসমক্ষে প্রদর্শন করেন। মমতা জানান, কালীঘাটের মূল কার্যালয়টি সংস্কারাধীন থাকায় নিয়ম মেনে প্রতি মাসে এক লক্ষ টাকা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও কর পরিশোধ করে এই ভবনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এসে কেন সেখানে তালা দেওয়া হলো, তা নিয়ে তিনি তীব্র প্রশ্ন তোলেন।

তৃণমূলের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটিই শুরু থেকে দলের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা বহাল থাকবে। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই তাকে মানুষের মন থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারবে না।

উল্লেখ্য, এর আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিদ্রোহী বিধায়ক মেট্রোপলিটনের ওই কার্যালয়ে বৈঠক করেন এবং ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এই ঘটনার পর দলের দীর্ঘদিনের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেছেন এবং কুণাল ঘোষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। নির্বাচন কমিশনে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ প্রমাণের চেষ্টার মাঝে মমতার এই কড়া অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।