ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

৯ বছর ধরে তালাবদ্ধ স্কুল, পাঠদানহীন প্রতিষ্ঠানেই মিলছে সরকারি বেতন-ভাতা

কাগজে-কলমে বিদ্যালয়টি পুরোপুরি সচল। সেখানে চারজন শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৬২ জন। প্রতি মাসেই নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তুলে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সুখনগরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত ৯ বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনোদিন পাঠদান হয় না, দেখা মেলে না কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ২০১৭ সালের পর থেকে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে আছে। কেবল বছরের শুরুতে বই বিতরণের সময় কয়েক দিনের জন্য স্কুলটি খোলা হয়, এরপর আবার তালা ঝুলে যায়। শিক্ষা অফিসের তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের সময় পাশের কিন্ডারগার্টেন থেকে শিক্ষার্থী ধার করে এনে উপস্থিত দেখানোর মতো জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে চার কার্যদিবস বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে দেখা গেছে, শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষে তালা ঝুলছে এবং প্রাঙ্গণে কোনো জাতীয় পতাকাও ওড়ানো হয়নি। অযত্ন আর অবহেলায় ভবনজুড়ে ময়লা-আবর্জনা জমেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত এই ভবনটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে তাদের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

৯ বছর ধরে তালাবদ্ধ স্কুল, পাঠদানহীন প্রতিষ্ঠানেই মিলছে সরকারি বেতন-ভাতা

আপডেট সময় : ০২:১৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

কাগজে-কলমে বিদ্যালয়টি পুরোপুরি সচল। সেখানে চারজন শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৬২ জন। প্রতি মাসেই নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তুলে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম সুখনগরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত ৯ বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কোনোদিন পাঠদান হয় না, দেখা মেলে না কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ২০১৭ সালের পর থেকে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে আছে। কেবল বছরের শুরুতে বই বিতরণের সময় কয়েক দিনের জন্য স্কুলটি খোলা হয়, এরপর আবার তালা ঝুলে যায়। শিক্ষা অফিসের তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের। এমনকি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের সময় পাশের কিন্ডারগার্টেন থেকে শিক্ষার্থী ধার করে এনে উপস্থিত দেখানোর মতো জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে চার কার্যদিবস বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে দেখা গেছে, শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষে তালা ঝুলছে এবং প্রাঙ্গণে কোনো জাতীয় পতাকাও ওড়ানো হয়নি। অযত্ন আর অবহেলায় ভবনজুড়ে ময়লা-আবর্জনা জমেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত এই ভবনটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকলেও বাস্তবে তাদের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি।