ঢাকা ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

ফেসবুকে অর্ডার, কুরিয়ারে সিসা সরবরাহ: অনলাইন মাদক চক্রের বৃহত্তম চালান জব্দ, গ্রেপ্তার ৩

ফেসবুক পেজে পণ্যের ছবি, ইনবক্সে অর্ডার গ্রহণ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশজুড়ে সরবরাহ—এই অভিনব কৌশলে গড়ে উঠেছিল নেশাজাতীয় দ্রব্য ‘সিসা’র একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন বাণিজ্য নেটওয়ার্ক। দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারির পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান, ভাটারা, মালিবাগ, বসুন্ধরা ও নূরেরচালা এলাকায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে এই চক্রের হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছে।

এই অভিযানে দেশের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা, ৪১টি হুক্কা এবং বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন জানান, এটি কেবল একটি বড় চালান জব্দের ঘটনা নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর মাদক কারবারের এক নতুন কৌশল উন্মোচনেরও গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে।

শুক্রবার সেগুনবাগিচায় ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা, ৪১টি হুক্কা, হুক্কার ৪০ কেজি কয়লা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি নামে দুই জমজ ভাই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সিসার দুটি চালান এক ক্রেতার কাছে পাঠাবেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে বসুন্ধরা এলাকা থেকে এক কেজি সিসার পার্সেল জব্দ করা হয়। একই দিনে মালিবাগ থেকে আরও এক কেজি সিসার পার্সেল উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত পার্সেলের প্রেরকের ঠিকানা যাচাই করে একই দিনে গুলশানের কালাচাঁদপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে জমজ দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফ্ল্যাটটি থেকে ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা এবং ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, তাদের কাছে সিসার চালানের বড় অংশ আসে ভাটারা এলাকার মাকসুদের কাছ থেকে। পরবর্তীতে সেখানে অভিযান চালিয়ে মাকসুদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়। এই অভিযান দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ২৬৪৫, আহত ১২ হাজারেরও বেশি

ফেসবুকে অর্ডার, কুরিয়ারে সিসা সরবরাহ: অনলাইন মাদক চক্রের বৃহত্তম চালান জব্দ, গ্রেপ্তার ৩

আপডেট সময় : ০৭:৩১:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

ফেসবুক পেজে পণ্যের ছবি, ইনবক্সে অর্ডার গ্রহণ, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশজুড়ে সরবরাহ—এই অভিনব কৌশলে গড়ে উঠেছিল নেশাজাতীয় দ্রব্য ‘সিসা’র একটি সংঘবদ্ধ অনলাইন বাণিজ্য নেটওয়ার্ক। দীর্ঘ গোয়েন্দা নজরদারির পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান, ভাটারা, মালিবাগ, বসুন্ধরা ও নূরেরচালা এলাকায় সমন্বিত অভিযান চালিয়ে এই চক্রের হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়েছে।

এই অভিযানে দেশের ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা, ৪১টি হুক্কা এবং বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন জানান, এটি কেবল একটি বড় চালান জব্দের ঘটনা নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর মাদক কারবারের এক নতুন কৌশল উন্মোচনেরও গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে।

শুক্রবার সেগুনবাগিচায় ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ বদরুদ্দীন বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা, ৪১টি হুক্কা, হুক্কার ৪০ কেজি কয়লা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি নামে দুই জমজ ভাই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সিসার দুটি চালান এক ক্রেতার কাছে পাঠাবেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে বসুন্ধরা এলাকা থেকে এক কেজি সিসার পার্সেল জব্দ করা হয়। একই দিনে মালিবাগ থেকে আরও এক কেজি সিসার পার্সেল উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত পার্সেলের প্রেরকের ঠিকানা যাচাই করে একই দিনে গুলশানের কালাচাঁদপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে জমজ দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফ্ল্যাটটি থেকে ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা এবং ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, তাদের কাছে সিসার চালানের বড় অংশ আসে ভাটারা এলাকার মাকসুদের কাছ থেকে। পরবর্তীতে সেখানে অভিযান চালিয়ে মাকসুদকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার কাছ থেকে ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়। এই অভিযান দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।